অভিভাবকহীন জিবি!

এই খবর শেয়ার করুন (Share this news)

রাজ্যের প্রধান রেফারেল হাসপাতাল জিবিপি কি অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে ? গত বেশ কিছুদিন ধরেই জনমনে কিন্তু এই প্রশ্ন বড় হয়ে উঠেছে । বিশেষ করে দূরদুরান্ত থেকে যারা চিকিৎসার জন্য রাজ্যের প্রধান হাসপাতালটিতে আসেন তাদের মনেই এই প্রশ্ন বড় হয়ে উঁকি দিচ্ছে । কেননা , চিকিৎসা করাতে এসে সাধারণ মানুষ যে অভিজ্ঞতা অর্জন করে ফিরে যান সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এই প্রশ্নের উৎপত্তি বলে মনে করা হচ্ছে । এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে , জিবি হাসপাতালই রাজ্যের গরিব ও সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা । শত সমস্যা এবং নেই – এর মধ্যেও রাজ্যের মানুষ জিবি হাসপাতালের উপরই আস্থা রাখেন ।

মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন জিবি হাসপাতালে চিকিৎসা হলে রোগী ভালো হয়ে যাবে । এই বিশ্বাসের সাথে আরও একটি কাজ করে , সেটি হলো মানুষের আর্থিক অবস্থা । চিকিৎসা এখন টাকা স্বাস্থ্য পরিষেবা এখন আর দিয়ে ক্রয় করতে হয় । চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা এখন আর মানবসেবা বা সমাজসেবা হিসাবে বিবেচিত হয় না । চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা এখন কর্পোরেট ব্যবসা । যে ব্যবসায় হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয় । আরও স্পষ্ট করে বললে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরিষেবাকে কর্পোরেট ব্যবসায় রূপান্তরিত করা হয়েছে ।

যার ফলশ্রুতিতে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানের নামে রোগী এবং রোগীর পরিবারের পকেট খালি করে দেওয়া হয় । যাকে বলে গলাকাটা ব্যবসা । সব জেনেও মানুষ বাধ্য হয় চিকিৎসা নামক | হাঁড়িকাঠে গলা দিতে । এ ছাড়া বিকল্প কোনও পথ নেই । তাই অধিকাংশ গরিব সাধারণ মানুষ কোথায় যাবেন চিকিৎসার জন্য ? তাদের তো সেই সামর্থ নেই অর্থ দিয়ে ‘ চিকিৎসা ’ ক্রয় করার । পঁচানব্বই শতাংশ মানুষের তাই শেষ ভরসা জিবি । কিন্তু এখানে এসেও নিস্তার নেই । কারণ , এখানে নেই – এর তালিকাটা এতটাই দীর্ঘ যে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ।

প্রয়োজনীয় চিকিৎসক , স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে অন্যান্য পরিকাঠামো সঙ্কটের কথা না হয় বাদই দেওয়া গেলো । কিন্তু রাজ্যের প্রধান রেফারেল হাসপাতালে জীবনদায়ী ওষুধ থাকবে না – এ কেমন ব্যবস্থাপনা ! খবরে প্রকাশ , গত চার মাস ধরে জিবি হাসপাতালে ইনসুলিন নেই , ডায়াবেটিস রোগের কোনও ওষুধ নেই । রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরিব , সাধারণ মানুষ জিবিতে এসে ইনসুলিন পাচ্ছেন না । ডায়াবেটিসের কোনও ওষুধ পাচ্ছেন না । অথচ সেই ওষুধ খোলাবাজারে বিক্রি হচ্ছে চড়া মূল্যে । অন্য সব সমস্যার কথা না হয় ছেড়েই দেওয়া হলো । প্রশ্ন হচ্ছে এই দায় কার ? দায় অবশ্যই সরকারের , রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের এবং জিবি হাসপাতাল পরিচালনার দায়িত্বে যারা রয়েছেন তাদের ।

কোনও অজুহাত দিয়েই এই দায় এড়ানো যায় না । কারণ , এখানে মানুষের জীবন – মরণের বিষয়টি জড়িত । হাসপাতাল কোনও শপিং মল নয় । সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এমন মানুষেরাই আসেন যাদের কোনও সামর্থ নেই । জীবনযুদ্ধে বেঁচে থাকাই যাদের কাছে ‘ অলৌকিক ’ বলে বিবেচিত হয় । তারাই আসেন আশা নিয়ে । আর এই সংখ্যাটাই বেশি । অথচ দায়িত্বে যারা আছেন , সরকারী বাবুদের সেই হুঁশ নেই । বর্তমানে স্বাস্থ্য দপ্তরের মন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী নিজেই । তিনি নিজেও একজন চিকিৎসক । তাঁর নেতৃত্বে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল আরও উন্নত হবে- এমন আশা করা কি রাজ্যবাসীর অন্যায় হবে ? নাকি অভিভাবকহীন হয়ে থাকবে ? জবাবের জন্য অপেক্ষায় থাকবেন রাজ্যবাসী

Dainik Digital

Share
Published by
Dainik Digital

Recent Posts

শুরু হলো পর্ষদের উত্তরপত্র মূল্যায়ন!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল এপ্রিল মাসের শেষে…

22 hours ago

টিএমসি কাণ্ড, ঋণ নিয়েছিলেন অধ্যাপিকা!তদন্ত চলছে, কাউকে ছাড়া হবে না বিধানসভায় কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজে ছাত্রছাত্রীদের পাস করিয়ে দেবার নাম করে ডা. সোমা চৌধুরী নামে…

22 hours ago

নিজেদের অধিকার রক্ষায় বৈঠকে যাচ্ছে টিএফএর আজীবন সদস্যরা।।

অনলাইন প্রতিনিধি :-রাজ্য ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা টিএফএর সংবিধান সংশোধন করার নামে নিজেদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার…

23 hours ago

এডিসির ৩০২ স্কুলে ১ জন করে শিক্ষক, ছাত্র সমস্যা নিরসনে সরকার আন্তরিক, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী।।

অনলাইন প্রতিনিধি :-এডিসির ৩০২ টি স্কুলে শিক্ষক ১ রয়েছে।জাতীয় স্তরে প্রাথমিক স্কুলে ছাত্র- শিক্ষকের অনুপাত…

23 hours ago

কাজ করেনি,ফেরত গেছে ২২.৯১ কোটি টাকা,বাম আমলে অন্ধকারে ডুবে ছিল রাজ্যের পর্যটন: সুশান্ত।।

অনলাইন প্রতিনিধি :-বামফ্রন্টের টানা ২৫ বছরে রাজ্যের পর্যটন শিল্পের কোনও উন্নয়নই হয়নি। সম্পূর্ণ অন্ধকারে ডুবে…

23 hours ago

জাল ওষুধের রমরমা।

একা রামে রক্ষা নেই, সুগ্রীব দোসর। কথাটা বোধহয় এক্ষেত্রে একেবারে যথার্থভাবে ধ্বনিত হয়।গত কয়দিন ধরেই…

1 day ago