ঋণ পেতে হুইলচেয়ারে বসিয়ে শবকে দিয়ে ‘সই’!!

এই খবর শেয়ার করুন (Share this news)

অনলাইন প্রতিনিধি :- হুইলচেয়ারে বৃদ্ধের মৃতদেহ বসিয়ে ব্যাঙ্কে ঋণ নিতে গেলেন এক মহিলা। লাশকে দিয়েই লোনের ফর্মে সই করানোর চেষ্টাও করলেন তিনি। কিন্তু শেষরক্ষা হল না।
শেষপর্যন্ত পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি। ঘটনাস্থল ব্রাজিলের রাজধানী রিও ডি জেনেইরো। স্থানীয় প্রায় প্রতিটি সংবাদমাধ্যমেই এই সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিটি সংবাদপত্রেই গোটা ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এ সবিস্তারে খবরটি প্রকাশিত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, কাজটি প্রায় হাসিলই করে ফেলেছিলেন ওই মহিলা। কিন্তু নিজের সামান্য ভুলেই ধরা পড়ে গেলেন। ওই ঘটনার একটি ভিডিয়োও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা গেছে, একজন মহিলা ঋণ নেওয়ার অভিপ্রায় হুইলচেয়ারে মৃত ব্যক্তিকে (বয়স ৬৮ বছর) বসিয়ে নিয়ে ব্যাঙ্কে পৌঁছেছেন। দেখা যায়, মহিলাটি মৃত ব্যক্তির হাতে একটি পেন রাখেন এবং সেই মৃতদেহের হাত দিয়ে স্বাক্ষর করানোর চেষ্টা করান। ধৃত • মহিলার নাম এরিকা ডি সুজা ভিয়েরা। তিনি হুইলচেয়ারে বসিয়ে মৃতকে নিয়ে এম গেছিলেন রিও ডি জেনেইরোতে ইটাউ ব্যাঙ্কের শাখায়। মৃতকে দিয়ে সই করিয়ে এরিকা ১৭০০০ ব্রাজিলীয় রেইস (৩,২৫০ ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় ২ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা) ঋণের জন্য অনুরোধ করেন। তখনই ব্যাঙ্কের সংশ্লিষ্ট কর্মীরা লক্ষ্য এই করেন যে হুইলচেয়ারে যিনি বসে আছেন, তার শরীরে কোনও সাড় নেই। কর্মীরা এর এরিকাকে জিজ্ঞাসা করেন, হুইলচেয়ারে বসে যিনি স্বাক্ষর করলেন তিনি তার কে হন? এরিকা জানান, নিকটাত্মীয়। ব্যাঙ্কের তরফেই তৎক্ষণাৎ পুলিশে ফোন করা হয়। মহিলা ফাঁক গলে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এদিকে ব্যাঙ্কের এক কর্মচারী নিজের মোবাইলে গোটা কাণ্ডের ভিডিয়োগ্রাফি করে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
ব্রাজিল পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম পাওলো রবার্তো ব্রাগা। মৃত না অবস্থাতেই তাকে ব্যাঙ্কে নিয়ে এসেছিলেন এরিকা। অথচ, ব্যাঙ্কে এসে এরিকা মৃত ব্যক্তির কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে কথাও বলছিলেন! ধৃত এরিকার বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং একজন মৃত ব্যক্তিকে নির্যাতন করার অভিযোগে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ব্রাজিল পুলিশের কর্তা ফ্যাবিও লুইজ সুজাকে উদ্ধৃত করে গার্ডিয়ান লিখেছে, ময়না তদন্তে জানা গেছে, হুইলচেয়ারে বসিয়ে নিয়ে আসার দুই ঘণ্টা আগে ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছিল। ফ্যাবিও লুইজ বলেছেন, ‘আমি আমার বাইশ বছরের কর্মজীবনে এমন ঘটনা দেখিনি, শুনিওনি।”

Dainik Digital

Share
Published by
Dainik Digital

Recent Posts

শুরু হলো পর্ষদের উত্তরপত্র মূল্যায়ন!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল এপ্রিল মাসের শেষে…

22 hours ago

টিএমসি কাণ্ড, ঋণ নিয়েছিলেন অধ্যাপিকা!তদন্ত চলছে, কাউকে ছাড়া হবে না বিধানসভায় কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজে ছাত্রছাত্রীদের পাস করিয়ে দেবার নাম করে ডা. সোমা চৌধুরী নামে…

22 hours ago

নিজেদের অধিকার রক্ষায় বৈঠকে যাচ্ছে টিএফএর আজীবন সদস্যরা।।

অনলাইন প্রতিনিধি :-রাজ্য ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা টিএফএর সংবিধান সংশোধন করার নামে নিজেদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার…

23 hours ago

এডিসির ৩০২ স্কুলে ১ জন করে শিক্ষক, ছাত্র সমস্যা নিরসনে সরকার আন্তরিক, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী।।

অনলাইন প্রতিনিধি :-এডিসির ৩০২ টি স্কুলে শিক্ষক ১ রয়েছে।জাতীয় স্তরে প্রাথমিক স্কুলে ছাত্র- শিক্ষকের অনুপাত…

23 hours ago

কাজ করেনি,ফেরত গেছে ২২.৯১ কোটি টাকা,বাম আমলে অন্ধকারে ডুবে ছিল রাজ্যের পর্যটন: সুশান্ত।।

অনলাইন প্রতিনিধি :-বামফ্রন্টের টানা ২৫ বছরে রাজ্যের পর্যটন শিল্পের কোনও উন্নয়নই হয়নি। সম্পূর্ণ অন্ধকারে ডুবে…

23 hours ago

জাল ওষুধের রমরমা।

একা রামে রক্ষা নেই, সুগ্রীব দোসর। কথাটা বোধহয় এক্ষেত্রে একেবারে যথার্থভাবে ধ্বনিত হয়।গত কয়দিন ধরেই…

24 hours ago