এডিসির ৩০২ স্কুলে ১ জন করে শিক্ষক, ছাত্র সমস্যা নিরসনে সরকার আন্তরিক, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী।।

অনলাইন প্রতিনিধি :-এডিসির ৩০২ টি স্কুলে শিক্ষক ১ রয়েছে।জাতীয় স্তরে প্রাথমিক স্কুলে ছাত্র- শিক্ষকের অনুপাত ২১:১ এবং উচ্চ বুনিয়াদি স্কুলে ছাত্র- শিক্ষকের অনুপাত ১৮:১।রাজ্যস্তরে এই অনুপাত প্রাথমিক স্কুলে ১৭:১ এবং উচ্চ বুনিয়াদি স্কুলে ১৫:১।রাজ্যের এডিসি এলাকার স্কুলে প্রতি ৯ জন ছাত্রের নিরীখে ১ জন (৯:১) করে শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন।এই শিক্ষক ছাত্র সংখ্যার অনুপাত মোতাবেক শিক্ষকশিক্ষিকা সুসমবন্টন সুনিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।মঙ্গলবার
বিধানসভায় রেফারেন্স পিরিয়ডে বিধায়ক পাঠানলাল জমাতিয়ার জনস্বার্থে আনা এক নোটিশের উত্তরে শিক্ষা দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা এ তথ্য জানিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান,এডিসি এলাকায় বর্তমান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৩৮৭ টি।এই স্কুলগুলিতে ছাত্র সংখ্যা ৩০২৭৩ জন এবং শিক্ষকের মোট সংখ্যা ৩৫০৪ জন।এর মধ্যে ডেপুটেশন শিক্ষক রয়েছে ৭০৯ জন।এছাড়া সর্বশিক্ষা প্রকল্পের ২০২৩ জন শিক্ষকদের স্কুলগুলিতে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে এডিসি এলাকা সহ রাজ্যের সকল স্তরের মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনার আগ্রহ বেড়েছে রাজ্যবাসীর।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ছাত্রছাত্রীদের গুণগত শিক্ষা প্রদানে রাজ্য সরকার আন্তরিক। রাজ্য এবং টিটিএএডিসি পরিচালিত বিদ্যায়গুলির ছাত্রছাত্রীদের গুণগত শিক্ষা প্রদানে রাজ্য সরকার বদ্ধপরিকর।তাই টিটিএএডিসি এলাকায় বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তর থেকে মোট ৭০৯ জন শিক্ষককে গুণগত শিক্ষা প্রদান করার জন্য ডেপুটেশনে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের বেতন বাবদ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ৬৬ কোটি ৯৮ লক্ষ ২৩ হাজার ৪০৮ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এডিসি এলাকার বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার পাশাপাশি সঠিক পুষ্টি জোগান দেওয়া এবং বিদ্যালয়ে আসার জন্য আগ্রহী করে তুলতে পিএম-পোষণ প্রকল্পের অধীনে এডিসি এলাকার প্রতিটি উচ্চ ও নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ের রান্না করা খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর জন্য প্রতিবছর এডিসি কর্তৃপক্ষকে গড়ে ৫.৩৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪.৯৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারের শিক্ষা দপ্তরের অন্তর্গত বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্পে হস্টেল নির্মাণ করা হচ্ছে।কস্তরবা গান্ধী বালিকা বিদ্যালয়ের অন্তর্গত ১৫ টি হস্টেলের মধ্যে ১৪ টি টিটিএডিসি এলাকায় অবস্থিত। অনুরূপভাবে নেতাজী সুভাষ বোস আবাসীয় বিদ্যালয় হস্টেল প্রকল্পে ১৬ টি হোস্টেলের মধ্যে ৯ টি হস্টেল টিটিএএডিসি এলাকায় অবস্থিত। এইসব হোস্টেলগুলিতে ছাত্রছাত্ররা বিনামূল্যে থাকা, খাওয়া এবং পড়ার সুযোগ গ্রহণ করেছে। এছাড়াও পিএম-জনমন এবং ধরতী আভা জনজাতি গ্রাম উৎকর্ষ অভিযান এই দুটি প্রকল্পে ৩৯ টি হস্টেল তৈরির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন পাওয়া গেছে। এই হস্টেলগুলি টিটিএএডিসি এলাকায় তৈরি করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ড্রপআউট ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয়মুখী করার লক্ষ্যে বিদ্যালয় চলো অভিযান করা হয়ে থাকে। এই অভিযানকে সফল করার জন্য অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের দ্বারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ড্রপআউট ছাত্রছাত্রীদের চিহ্নিত করে তাদের বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হয়। এর ফলে রাজ্যে আগের তুলনায় ড্রপআউটের সংখ্যা অনেক কমেছে। ত্রিপুরার উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদ এলাকায় শিক্ষার সামগ্রিক মানোন্নয়নে এডিসি প্রশাসন ও বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের যৌথ অংশগ্রহণে একটি অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কমিটি গঠন করার প্রস্তাব রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। এই কমিটি টিটিএএডিসি পরিচালিত বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক বরাদ্দ, শিক্ষকের যৌক্তিকতা ইত্যাদির মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলির সামগ্রিক উন্নয়নের বিষয়ে পর্যালোচনা করবে।
বিধায়ক পাঠান লাল জমাতিয়ার বক্তব্য ছিল এডিসি এলাকার স্কুলগুলি ছাত্র সংকট ধুঁকছে। প্রত্যেক বছর ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদের অধিকাংশ স্কুলে গণহারে বাড়ছে স্কুল ছুট ছাত্রছাত্রী। এর মূলে রয়েছে স্কুলগুলিতে নেই পঠনপাঠনে নূন্যতম পরিকাঠামো। এর সাথে অধিকাংশ স্কুলে নেই চেয়ার টেবিল, বেঞ্চ। এমনকী নেই শৌচাগার,পানীয় জল, বিদ্যুৎ সহ ডাইনিং হল।এখন নতুন করে এর সাথে ইংরেজি মাধ্যমে স্কুলে পড়াশোনার আগ্রহ বেড়েছে ছাত্রছাত্রীদের। বর্তমানে এডিসি এলাকার অধিকাংশ স্কুলে বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা হচ্ছে।এ সমস্যা নিরসনে রাজ্য সরকার কি পদক্ষেপ নিয়েছে। বিধানসভার অধিবেশনে বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণের বক্তব্য ছিল এটাই বিকশিত ত্রিপুরার উজ্জ্বল নির্দশন।