এ রোগের ওষুধ নেই, সামনে দুর্দিন গরিবের!!

এই খবর শেয়ার করুন (Share this news)

অনলাইন প্রতিনিধি:-দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলোর লাভের বড় অংশই এখন খেয়ে নিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। তাই ভোেট শেষ হলেই ওষুধের দাম বাড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে। গত লোকসভা ভোটের আগে সুপ্রিম কোর্ট ইলেকট্রোরাল বন্ডের সমস্ত নথি স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়াকে পেশ করার জন্য বলার পর জনসমক্ষে বেরিয়ে আসে আসল চিত্র। নির্বাচনি বন্ডে চাঁদা দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করেছিল ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলো। লোকসভার ভোট শেষ হওয়ার পর এই নিয়ে পঞ্চম দফায় ওষুধের দাম বাড়ালো ফার্মা সংস্থার মালিক ও কর্মকর্তারা। অর্থাৎ নির্বাচনি বন্ডে রাজনৈতিক দলগুলোকে খুশি করতে যে পরিমাণ টাকা তারা খরচ করেছে, এবার এর কয়েকগুণ টাকা তুলে নেওয়ার জন্য এক বছরে পঞ্চমবারের মতো ওষুধের দাম বাড়লো দেশে।
নতুন আর্থিক বছর শুরু হওয়ার প্রথম দিনই, অনেকটা বেপরোয়া চেহারা নিয়ে ফার্মা কোম্পানিগুলো দেশে ৭৪৮টি ওষুধের দাম একতরফা বাড়িয়ে দিয়েছে।সবচেয়ে উদ্বেগজনক | ঘটনা হলো,ওষুধের দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তটা একতরফা নিয়েছে ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি। অথচ দেশে কেন্দ্রীয় সরকার রয়েছে। রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। এর নিচে রয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোল জেনারেল অব ইন্ডিয়া। অথচ কারোর মুখে কোনও রা-শব্দ নেই।কার্যত কাউকে তোয়াক্কা না করেই ওষুধ নির্মাণকারী কোম্পানিগুলোর সংস্থা এনপিপিএ এই মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা করেছে। শুধু এখানেই থেমে থাকেনি তারা। সাথে এই কথাও জানিয়ে দিয়েছে ওষুধের মূল্যবৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তটা চূড়ান্ত এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেবে না।আসলে ওষুধ কোম্পানিগুলোর এরকম বেপরোয়া মনোভাবের পেছনে কারণও যথেষ্ট। কারণটা হলো, গত লোকসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোকে ইলেকট্রোরাল বন্ডে যত টাকা চাঁদা দিয়েছিল বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সংস্থা, এর মধ্যে মোট চাঁদার বত্রিশ শতাংশই দিয়েছিল ওষুধ কোম্পানিগুলো। স্বাভাবিক কারণেই রাজনৈতিক দল বিশেষ করে শাসককে খুশি করার পর এবার নিজেদের পকেট ভারী করার অপপ্রয়াসকে কেউ বাধা দেবে না।যেহেতু ওষুধ কোম্পানিগুলো নিজেদের পকেট থেকে নির্বাচনি বন্ডে টাকা দেয়নি, ফলে ওষুধের দাম বাড়িয়েই এবার তারা টাকা তুলতে চাইবে। যদি ৭০০ কোটি টাকা নির্বাচনি বন্ডে দিয়ে ওষুধ কোম্পানিগুলো ওষুধের দাম বাড়িয়ে সাত হাজার কোটি টাকা উপার্জন করে, সেক্ষেত্রে তাদের বাধা দেওয়ার কেউ নেই। যে কারণে গত লোকসভা ভোেট শেষ হওয়ার পর দফায় দফায় ওষুধের যে দাম বেড়েছে তার হার আঠারো থেকে ত্রিশ শতাংশ। ফলে মাথায় হাত পড়েছে মধ্যবিত্তের। বরং বলা যায়, ওষুধের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার চিকিৎসাজনিত খরচ, পরীক্ষা ও ডায়াগোসিস ব্যয় সবকিছু মিলিয়ে আরও মহার্ঘ্য হতে চলেছে সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থা।
নতুন অর্থ বছরের প্রথম দিনেই ৭৪৮টি ওষুধের দাম বৃদ্ধির যে চিত্র সামনে এসেছে তাতে দেখা গেছে, প্রায় বেশির ভাগ ওষুধই জীবনদায়ী এবং রোগীর জন্য নিত্য ব্যবহার্য্য। এর ফলে বাদবাকী যে সমস্ত জীবনদায়ী ওষুধ রয়েছে পর্যায়ক্রমে সেগুলোরও আগামীদিনে দাম বাড়ানো হবে। একই সাথে ইনজেকশন সহ চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি শুধুই এখন সময়ের অপেক্ষা।পরিস্থিতি যে পথে এগিয়ে চলেছে, তাতে কার্যত দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রকের হাতে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের সুযোগ আর থাকছে না।
প্রসঙ্গত গত লোকসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই এক ধাক্কায় বেশ কিছু অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের মূল্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। আর বৃদ্ধি পাওয়া এই ওষুধগুলোর তালিকার সঙ্গে ওষুধ কোম্পানিগুলোর তরফে নির্বাচনি বন্ডে দেওয়া অর্থের বেশ সুন্দর যোগসাজশ রয়ে গেছে। যেমন নির্বাচনি বন্ডে যে সংস্থা ৯.৭৫ কোটি টাকা উপঢৌকন দিয়েছিল, ভোট শেষ হওয়ার পর সেই সংস্থার নামি একটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখার ওষুধের দাম রাতারাতি পঁচিশ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। পর্যায়ক্রমে দেখা গেছে বন্ড কেনার তালিকায় নামিদামি বহু ফার্মা কোম্পানি যারা ৭৭ কোটি, কেউ ৩৯ কোটি, ৫১ কোটি, কিংবা ২৪ কোটি টাকা রাজনৈতিক দলগুলোকে দিয়েছিল এরা সকলেই অনৈতিকতার হাত ধরে সুগার, কিডনি, ক্যান্সার, অ্যান্টিবায়োটিক, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ জনিত ওষুধের দাম অন্তত আঠারো থেকে বত্রিশ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছিল।
দফায় দফায় অত্যাবশ্যকীয় এবং জীবনদায়ী ওষুধের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় এই ব্যাধি কোন ওষুধে সারবে সেটাই এখন মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। লক্ষ্যণীয় হলো, এক এপ্রিল দেশ জুড়ে নামিদামি এবং অতি প্রয়োজনীয় ৭৪৮টি ওষুধের উপর বিভিন্ন ফার্মা কোম্পানি লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি করলেও রাজনৈতিক দলগুলো এবং সরকার এই ইস্যুতে মুখে কুলুপ এঁটেছে।

Dainik Digital

Recent Posts

দুদিনের সফরে থাইল্যান্ডে প্রধানমন্ত্রী,সাক্ষাৎ হবে ইউনুসের সাথেও!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-ষষ্ঠ 'বিমসটেক' শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান করতে বৃহস্পতিবার দু'দিনের সফরে থাইল্যান্ডে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র…

19 hours ago

৯৩,৪২৫ মহিলাকে লাখপতি দিদি করার পরিকল্পনা!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত ৯৪ হাজার ৭২৩ জন মহিলা লাখপতি দিদি হয়েছেন।…

19 hours ago

জিবি হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থা ঘিরে রোগীর অভিযোগ বাড়ছেই!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-রাজ্যের প্রধান হাসপাতাল জিবিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসব সব বিভাগে চব্বিশ ঘন্টা না থাকায় রোগীর…

20 hours ago

অনুপ্রবেশ রুখতে জয়েন্ট পেট্রোলিং চলছে: মুখ্যমন্ত্রী!!

অনলাইন প্রতিনিধি:-রাজ্যে অনুপ্রদেশ রুখতে পুলিশ,বিএসএফ ও অন্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলি যৌথভাবে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন…

20 hours ago

ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ, তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তে সীলমোহর দিল কেন্দ্রীয় সরকার!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগজিকিউটিভকাউন্সিলের সিদ্ধান্তকে সীলমোহর দিল মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক।কেন্দ্রীয় সরকারের এই নির্দেশ…

20 hours ago

ভেঙে পড়ল বায়ুসেনার বিমান!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-গুজরাতে বড়সড় বিপত্তি যুদ্ধবিমান ভেঙে। বায়ুসেনার একটি যুদ্ধবিমান ভেঙে মৃত্যু হয়েছে এক পাইলটের।…

20 hours ago