করােনা পূর্ববর্তী ট্রেন চলাচল শুরুর উদ্যোগ চলছে রাজ্যে!!

 করােনা পূর্ববর্তী ট্রেন চলাচল শুরুর উদ্যোগ চলছে রাজ্যে!!
এই খবর শেয়ার করুন (Share this news)

অনলাইন প্রতিনিধি :-রাজ্যের যাত্রী ট্রেন চলাচল করোনা জীবাণু সংক্রমণের পূর্ববর্তী অবস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ মর্মে উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলের তরফে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে ভারতীয় রেলবোর্ডে। বোর্ডে সম্মতি পাওয়া গেলে রাজ্যে স্থানীয় পর্যায়ে আরও এক জোড়া যাত্রী ট্রেন চলাচল করবে। তারমধ্যে সপ্তাহে পাঁচদিন সাব্রুম-ধর্মনগর, ধর্মনগর-সাব্রুমের মধ্যে যাত্রী ট্রেন চলাচলের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে সপ্তাহের বাকি দুইদিন ট্রেনটি আগরতলা-সাক্রম-আগরতলার মধ্যে চলাচল করবে।
করোনা জীবাণু সংক্রমণ জনিত পরিস্থিতির আগে রাজ্যে ভায়া আগরতলা সাব্রুম-ধর্মনগর এবং ধর্মনগর-সাব্রুম ভায়া আগরতলা দৈনিক এক জোড়া যাত্রী ট্রেন চলাচল করে। করোনা জীবাণু সংক্রমণ শুরু হলে উল্লেখিত দুই জোড়া যাত্রী ট্রেনের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।এরমধ্যে মাস কয়েক আগে আগরতলা-সাব্রুম-আগরতলা দুপুরের যাত্রী ট্রেনটির চলাচল শুরু হয় নতুন করে।এই ট্রেনের চলাচল শুরু হওয়ার পর সাব্রুম ধর্মনগর ভায়া আগরতলা এবং ধর্মনগর-সাব্রুম ভায়া আগরতলা যাত্রী ট্রেন চলাচল শুরুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এরই অঙ্গ হিসেবে সীমান্ত রেলের তরফে দেশের রেল বোর্ডের কাছে নতুন স্থানীয় পর্যায়ে দৈনিক আরও এক জোড়া করে যাত্রী ট্রেন চলাচলের প্রস্তাব পাঠানো হয়। এই প্রস্তাবের কোথাও অবশ্য করোনা জীবাণু সংক্রমণ জনিত পরিস্থিতি অথবা পূর্বতন যাত্রী ট্রেন নতুন করে চলাচল শুরু করার কথা উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি পুরনো সূচির কথাও বলা হয়নি। প্রস্তাবে স্থানীয় পর্যায়ে তথা নতুন লোকাল ট্রেন চলাচলের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সীমান্ত রেলের তরফে রেল বোর্ডে পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়েছে সপ্তাহের মঙ্গল ও শনিবার ছাড়া বাকি পাঁচদিন সাব্রুম-ধর্মনগর ভায়া আগরতলা এবং ধর্মনগর-সাব্রুম ভায়া আগরতলা মোট ১৪ কোচের যাত্রী ট্রেন চলাচল করবে। আর মঙ্গল ও শনিবার আগরতলা-সাব্রুম, সাব্রুম-আগরতলার মধ্যে ট্রেনটি চলাচল করবে। সীমান্ত রেলের তরফে দেশের রেল বোর্ডের কাছে পাঠানো প্রস্তাব অনুসারে সপ্তাহের মঙ্গল ও শনিবার ছাড়া বাকি পাঁচদিন
সকাল ৬.৪৫ মিনিটে সাব্রুম থেকে ছাড়বে যাত্রী ট্রেনটি। আগরতলা এসে পৌঁছবে সকাল ৯.১০ মিনিটে। দশ মিনিট অপেক্ষা করার পর ট্রেনটি ৯.২০ মিনিটে আগরতলা থেকে ধর্মনগরের উদ্দেশে ছাড়বে। ধর্মনগর পৌঁছবে দুপুর ২.১৫ মিনিটে। ফিরতি পথে ট্রেনটি বিকাল তিনটায় ধর্মনগর থেকে যাত্রা করে আগরতলায় পৌঁছবে সন্ধ্যা ৭.৫০ মিনিটে। আগরতলা স্টেশনে দশ মিনিট অপেক্ষা করার পর ট্রেনটি রাত আটটায় সাক্রমের উদ্দেশে যাত্রা করবে। সাক্রম পৌঁছবে রাত ১০.৪৫ মিনিটে। সাব্রুম থেকে ধর্মনগর যাওয়ার সময় মোট ২৪৮ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে সময় লাগবে ৭ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। ট্রেনটির গড় গতি থাকবে প্রতি ঘণ্টায় ৩৩ কিলোমিটার। ধর্মনগর থেকে সাক্রম আসতে প্রতি ঘণ্টায় ৩২ কিলোমিটার গড় গতিতে মোট সময় লাগবে ৭ঘণ্টা ৪৫ মিনিট।
সাক্রম স্টেশনে ট্রেনের কোচের সারাই করার কোনও সুবিধা নেই। ফলে সাক্রম-ধর্মনগর-সাক্রম ভায়া আগরতলা যাত্রী ট্রেন সপ্তাহের প্রতিদিন চলাচল করা সম্ভব হবে না। ট্রেনের কোচ সহ আনুষঙ্গিক নানা বিষয়ের সারাই করার জন্য সপ্তাহে দুই দিন আগরতলায় কয়েক ঘণ্টার জন্য ট্রেনটি বসাতে হবে। এই দুই দিন ট্রেনটি আগরতলা-সাক্রম-আগরতলার মধ্যে চলাচল করবে বলে সীমান্ত রেলের তরফে প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব মোতাবেক সকাল ৬.৪৫ মিনিটে ট্রেনটি সাব্রুম থেকে যাত্রা করে আগরতলা আসবে সকাল ৯.৩০ মিনিটে। তারপর রাত ৮টায় আগরতলা থেকে যাত্রা করে ট্রেনটি সাক্রম পৌঁছবে রাত ১০.৪৫ মিনিটে। উভয় দিকের যাত্রাতে মোট ১০৮ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে প্রতি ঘণ্টায় ৩৯.২৭ কিলোমিটার গতিতে সময় লাগবে ২.৪৫ মিনিট। এ সবই আপাতত রয়েছে প্রস্তাব আকারে। রেল বোর্ডের সম্মতি পাওয়ার পরই প্রস্তাবটি বাস্তবে রূপ পাবে, তার আগে নয়। আর এই প্রস্তাব কবে বাস্তবে রূপ পাবে তা এখনই বলা সম্ভব নয় বলে খবর।

Dainik Digital

Dainik Digital

Leave a Reply

Your email address will not be published.