কাগজের কাপেও শরীরে যাচ্ছে প্লাস্টিক কণা, ভারসাম্য হারাচ্ছে হরমোন!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-প্লাস্টিকের চায়ের কাপে চুমুক দিলে শেষ হতে পারে পুরুষত্ব! এমনকী, হরমোন সংক্রান্ত আরও নানা রোগ শরীরে দানা বাঁধতে পারে। আয়েশ করে ১৫মিনিট ধরে চায়ের কাপে চুমুক দিলে শরীরে ২৫ হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক বা অত্যন্ত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্লাস্টিকের দানা প্রবেশ করে।যাকে খালি চোখে দেখা দুষ্কর। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের গবেষণায় এমনই ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক নবকুমার মণ্ডল যে গবেষণা পত্র প্রকাশ করেছেন তাতে তিনি বলেছেন, প্লাস্টিক মানব শরীরে কী ধরনের ক্ষতি করতে পারে, তা নিয়ে গবেষণা আরও করা দরকার। এখন বহু দোকানেই মাটির ভাঁড়ের পরিবর্তে ‘পেপার কাপ’ ব্যবহার করা হয়। নাম পেপার কাপ হলেও তা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি। বাইরের দিকে কাগজ থাকে। ভিতরে প্লাস্টিক থাকে। কাপে ৮৫-৯০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা থাকে। তাতে প্লাস্টিকের উপরের অংশ গলতে থাকে। উপরের এই অংশকে বলা হয় ‘প্লাস্টিক সাইজার’।
তিনি বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক মানব শরীরে প্রবেশ করলে ‘হরমোনাল ডিস্টার্ব’ শুরু হয়। এর ফলে পুরষত্বও শুধু নষ্ট হয় না, হজমের সমস্যা থেকে শুরু করে গলগণ্ড, গয়টারের মতো রোগ বাসা বাঁধে। এছাড়া প্রেসার বেড়ে যাওয়া সহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্লাস্টিকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরতে লাগাতার সেমিনার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।পড়ুয়াদের সচেতন করাই মূল লক্ষ্য। তারা বিষয়টি নিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে আলোচনা করবেন। অধ্যাপকদের দাবি, মাইক্রোপ্লাস্টিক চোখে দেখা যায় না। কিন্তু শরীরে প্রবেশ করার পর প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। মাটির ভাঁড় ব্যবহার করলে সেই সমস্যা তৈরি হয় না।
চা বিক্রেতার আক্ষেপ, মাটির ভাঁড়ের দাম অনেক বেশি। প্লাস্টিক কাপ তার চেয়ে অনেক কম দামে পাওয়া যায়। সেই কারণে অনেকেই এই কাপ ব্যবহার করছেন।যদিও ক্রেতাদের অনেকাংশই সচেতন। তারা মাটির ভাঁড়ে চা খেতেই বেশি পছন্দ করেন।তাতে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতেও তারা রাজি থাকেন। পরিবেশ সচেতনতা মঞ্চের পক্ষ থেকে গৌতম হালদার বলেছেন; ‘প্লাস্টিক কাপ তৈরির কারখানাগুলি বন্ধ করলে এই সমস্যা তৈরি হয় না।মাঝেমধ্যে দেখা যায়, প্রশাসন প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে দোকানগুলিতে অভিযান চালায়। তাতে কয়েক দিন এই সমস্ত দূষণ সৃষ্টিকারী উপকরণের ব্যবহার বন্ধও থাকে। কিন্তু, আবার সেসবের ব্যবহার শুরু হয়ে যায়।’
প্রশাসন জানিয়েছে, ‘প্লাস্টিকের দূষণ সম্পর্কে আমজনতাকে সচেতন করতে লাগাতার প্রচার করা হয়।তারপরও মানুষ এসব ব্যবহার করে। জনগণ সচেতন না হলে দূষণ বন্ধ করা সম্ভব নয়।’
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের দাবি, মাইক্রো প্লাস্টিক অত্যন্ত বিপজ্জনক। শরীরে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে টের পাওয়া যায় না। প্রতিক্রিয়া শুরু হলে কিছুটা টের পাওয়া যায়। ততক্ষণে আর কিছু করার থাকে না। পুরুষত্ব শেষ হয়ে যাওয়ার পর অনেককেই আফশোস করতে হয়। কী কারণে এই সমস্যা তৈরি হল, তা যখন তারা বোঝেন তখন তাঁদের আর কিছুই করার থাকে না। তাই আগাম সতর্ক হওয়া দরকার।