কাজ করেনি,ফেরত গেছে ২২.৯১ কোটি টাকা,বাম আমলে অন্ধকারে ডুবে ছিল রাজ্যের পর্যটন: সুশান্ত।।

 কাজ করেনি,ফেরত গেছে ২২.৯১ কোটি টাকা,বাম আমলে অন্ধকারে ডুবে ছিল রাজ্যের পর্যটন: সুশান্ত।।
এই খবর শেয়ার করুন (Share this news)

অনলাইন প্রতিনিধি :-বামফ্রন্টের টানা ২৫ বছরে রাজ্যের পর্যটন শিল্পের কোনও উন্নয়নই হয়নি। সম্পূর্ণ অন্ধকারে ডুবে ছিল পর্যটন শিল্প। বামফ্রন্টের নেতা-মন্ত্রীরা চাইতেন না রাজ্যের পর্যটন ক্ষেত্রের উন্নয়ন হোক। বহিঃরাজ্য এমনকী বিদেশ থেকে পর্যটক রাজ্যে আসুক তাও চাইতেন না বাম নেতা-মন্ত্রীরা।সে কারণে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে পর্যটন ক্ষেত্রের উন্নয়নে রাজ্য সরকারের কাছে টাকা পাঠালেও সে টাকা পর্যটনের উন্নয়নে খরচ করেনি বামফ্রন্ট সরকার। বাম আমলে পর্যটনের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকারের পাঠানো ২২.৯১ কোটি টাকা ফেরত চলে গেছে।বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে রাজ্যের প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্র পরিদর্শনকারী পর্যটকদের সার্বিক সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্ত প্রাইভেট মেম্বার রিজলিওশনের উপর আলোচনা করতে গিয়ে পর্যটন ক্ষেত্রের উন্নয়নে বামফ্রন্ট সরকারের ২৫ বছরের ব্যর্থতার তথ্য তুলে ধরে বামফ্রন্ট সরকারের ২৫ বছরের শাসনকালের তীব্র সমালোচনা করেন পর্যটন, খাদ্য ও পরিবহণমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। পর্যটনের উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, বর্তমান বিজেপি জোট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ডা.মানিক সাহার আন্তরিক সহযোগিতায় পর্যটন দপ্তর রাজ্যের পর্যটন ক্ষেত্রগুলিকে অত্যাধুনিকভাবে গড়ে তুলছে। নতুন নতুন এলাকায় পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। এখন পর্যটন কেন্দ্র মানে শুধুমাত্র বিনোদনের স্থান নয়, পর্যটন শিল্প এখন রাজ্যের যুবক-যুবতীদের রোজগারের একটি বিশেষ ক্ষেত্রে পরিণত হয়। রাজ্যের পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে সাজিয়ে তোলায় রাজ্যে পর্যটক আগমনের সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।এতে সরকারের রাজস্বও বাড়ছে।
আলোচনা করতে গিয়ে মন্ত্রী শ্রীচৌধুরী বলেন, প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রকে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে আরও দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে বহুমুখী কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে এবং ধারাবাহিকভবে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে আরও আকর্ষণীয় করার লক্ষ্যে প্রাকৃতিক পরিবেশ-বান্ধব গন্তব্যস্থলে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে ৫১টি লগ হাট নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই মোট ৪১টি লগ হাট পর্যটকদের জন্য নির্মাণ ও চালু করা হয়েছে (আমবাসায় ৩টি, বড়মুড়া ইকো পার্কে – ৫টি, সিপাহিজলায় ৪টি, টেপানিয়া ইকো পার্কে ৩টি এবং নারকেলকুঞ্জে ২৩টি, শালবাগানে ১টি, খুমুলুঙ ইকোপার্কে ১টি লগ হাট)। এছাড়া ছবিমুড়ায় ১০টি লগ হাট নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে। সহসাই পর্যটকদের জন্য চালু করা হবে। তাছাড়াও রাজ্যের কৃষ্টি – সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে উজ্জয়ন্ত প্রাসাদে ‘লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো’ চালু করা হয়েছে। গত ৭ নভেম্বর আগরতলার জগন্নাথ দীঘিতে ‘লেজার শো চালু’ করা হয়েছে। এছাড়াও পর্যটকদের সুবিধার জন্য উজ্জয়ন্ত প্রাসাদকে ৩৬৫ দিন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। পর্যটক পরিষেবা বাড়ানোর লক্ষ্যে ডম্বুর হৃদের নারকেলকুঞ্জে হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা ডম্বুর জলাশয়ের নৈসর্গিক ভ্রমণ দ্রুত সম্পন্ন করতে পারে। শ্রীচৌধুরী বলেন, মাতা ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দিরকে একটি আধ্যাত্মিক পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভারত সরকারের পর্যটন মন্ত্রক কর্তৃক ‘প্রসাদ’ প্রকল্পের মাধ্যমে মাতা ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির চত্বরের পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ করছে। সহসাই নবনির্মিত প্রকল্পটির উদ্বোধন করা হবে। উদয়পুরের বনদুয়ারে ৫১ শক্তিপীঠের অবিকল প্রতিরূপ পরিকাঠামো নির্মাণ করার জন্য ভারত সরকারের পর্যটন মন্ত্রক ৯৭.৬৮ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে। এখন অবধি ৬৪.৪৮ কোটি টাকা প্রদান করেছে। তাছাড়াও জিরানীয়ার এস এন কলোনিতে ইকো টুরিজম পার্ক, দুর্গাবাড়িতে টি মিউজিয়াম সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় নতুন, পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে।

Dainik Digital

Dainik Digital

Leave a Reply

Your email address will not be published.