মহাশিবরাত্রিতে আমিষ খাবার কে কেন্দ্র করে দিল্লির বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ!!
জরুরি চিকিৎসা বিভাগে রোগী দুর্ভোগ চরমে!!

অনলাইন প্রতিনিধি:-রাজধানীর আইজিএম হাসপাতালের জরুরি (ইমার্জেন্সি) চিকিৎসা বিভাগেও রোগীর ভোগান্তির শেষ নেই।বুধবার সকালে সেই ভোগান্তি আরও চরমে উঠে। প্রতিদিন হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসা বিভাগে (ব্লকে) রোগীরা চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসছেন। কিন্তু চিকিৎসক সংকটে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।জরুরি চিকিৎসা বিভাগে রুটিন অনুযায়ী চিকিৎসকরা সময়মতো না আসায় বা অনুপস্থিত থাকায় রোগযন্ত্রণা নিয়ে চিকিৎসক দেখানোর অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে রোগীরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোয়াচ্ছেন।রোগী ও রোগীর আত্মীয়ের অভিযোগ জরুরি চিকিৎসা বিভাগে এই অমানবিকতা নিত্যদিনের ঘটনা।বিস্ময়ের ব্যাপার হলো স্বাস্থ্য দপ্তর কোনও ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা তার কোনও খোঁজখবরই রাখে না। স্বাস্থ্য দপ্তরের কাজ কি তা নিয়ে ক্ষুব্ধ রোগী ও রোগীর আত্মীয়স্বজন প্রশ্ন তুলেছেন।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই সব বিষয়ে জানলেও কোনও কড়া পদক্ষেপ না নেওয়ায় সরকারী কাজে অনিহা একাংশ চিকিৎসকের কারণে হাসপাতালে রোগীর ভোগান্তি বাড়ছে বলে রোগীর অভিযোগ।হাসপাতালে এসব দেখভালে আরএমও থাকলেও তার নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসা বিভাগে গুরুতর রোগী যন্ত্রণা নিয়ে এসে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসক না দেখতে পেরে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে গত প্রায় এক বছর আগেও ৬০-৬৫ বছরের এক বয়স্ক রোগী বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল।
মারাত্মক শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা নিয়ে এসে জরুরি বিভাগে রাত ১০টা নাগাদ তৎক্ষণাৎ চিকিৎসক দেখাতে পারেনি।
বেসরকারী সিকিউরিটি রোগীর সিরিয়াল অনুযায়ী জরুরি চিকিৎসা বিভাগের সামনে লাইনে থাকা রোগীকে চিকিৎসক দেখাতে হবে বলে আটকে দেন। প্রবল শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যার কারণে দীর্ঘক্ষণ বিনা চিকিৎসায় জরুরি চিকিৎসা বিভাগের সামনে বসে থেকে মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ উঠেছিল।কিন্তু তারপরও জরুরি চিকিৎসা বিভাগের হুঁশ ফেরেনি। বুধবার শিবচতুর্দশী পুজো উপলক্ষে সরকারী ছুটি থাকায় হাসপাতালের বহির্বিভাগ বন্ধ ছিল। সকাল থেকেই জরুরি চিকিৎসা বিভাগে রোগীর প্রচণ্ড চাপ বাড়তে থাকে। সরকারী ছুটির দিন সব সময়ই জরুরি চিকিৎসা বিভাগে খুব সকাল থেকে দিনভর রোগীর অস্বাভাবিক চাপ থাকে। সেই কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তথা মেডিকেল সুপার ডা.দেবশ্রী দেববর্মা প্রতি শিফটে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য এক সঙ্গে তিনজন চিকিৎসককে রোগী দেখার জন্য রুটিন করে দেন। তিনজন চিকিৎসক জরুরি চিকিৎসা বিভাগে এক সঙ্গে বসে প্রতিদিন রোগীর চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য রুটিন করে দিলেও একাংশ চিকিৎসক সেই রুটিন অমান্য করে চলেছেন বলে প্রতিদিনই এই অভিযোগ উঠছিল। বুধবারও একাংশ চিকিৎসক হাসপাতালের রুটিন অমান্য করে সকালের শিফটে দু’জন চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকেন। শুধু একজন মহিলা চিকিৎসক জরুরি চিকিৎসা বিভাগে বসে রোগী দেখছিলেন। একজন চিকিৎসকের পক্ষে লাইনে থাকা এতো রোগী দেখা সম্ভব হচ্ছিল না। ক্রমেই জরুরি চিকিৎসা বিভাগের সামনে নানা রোগ যন্ত্রণা নিয়ে ঘটনা দুর্ঘটনায় আহত রোগীর ভিড় কেবল বাড়ছিল। তারমধ্যে বহু রোগীর অবস্থা খুবই গুরুতর। এই অবস্থায় জরুরি চিকিৎসা বিভাগে এসেও কখন চিকিৎসক দেখানে পারবেন তা নিয়ে রোগী ও রোগীর আত্মীয়রা গভীর উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। হাসপাতালের অব্যবস্থায় বাড়তে থাকে রোগীর মধ্যে ক্ষোভঅসন্তোষও। রোগীর ক্ষোভ যখন তুঙ্গে উঠে তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়। রুটিনে অনুপস্থিত বাকি দুই চিকিৎসকে জরুরি বিভাগে আনার জন্য ছোটাছুটি শুরু হয় হাসপাতালের তরফে। তার কিছুক্ষণের মধ্যে সকাল ১০টা নাগাদ জরুরি বিভাগে চলে আসে আরও একজন মহিলা চিকিৎসক। এখনও রুটিনে অনুপস্থিত আরও একজন চিকিৎসক। অনেক পরে সেই চিকিৎসকও জরুরি বিভাগে এসে উপস্থিত। ততক্ষণে হাসপাতালের এই চিকিৎসক সংকটও অব্যবস্থায় ক্ষুব্ধ হয়ে আর অপেক্ষা না করে অনেকে রোগীকে নিয়ে জিবি হাসপাতালে ছুটে যান। সেই কারণেও প্রতিদিন জিবি হাসপাতালে রোগী চাপ অস্বাভাবিক বাড়ছে বলে হাসপাতালের নিষ্ঠাবান চিকিৎসকরা দাবি করেন। আইজিএম হাসপাতাল রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তর সরকারী হাসপাতাল হলেও স্বাস্থ্য দপ্তরের উদাসীনতার কারণে নিত্য দিন রোগীরা হাসপাতালে এসে চরম অস্বস্তিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ।