অনলাইন প্রতিনিধি :-রাজ্যের প্রধান হাসপাতাল জিবিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসব সব বিভাগে চব্বিশ ঘন্টা না থাকায় রোগীর চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। আর সেই কারণে রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তুলে মৃতের শোকাহত পরিবার ও আত্মীয়স্বজন হাসপাতালে কদিন পর পরই ক্ষোভবিক্ষোভে ফেটে পড়েন। চিকিৎসক নিগৃহীত হন। হাসপাতাল ভাঙচুর হয়।পুলিশকে ছুটে এসে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়। জিবি হাসপাতালে চব্বিশ ঘন্টা সব বিভাগে চিকিৎসক রাখার রুটিন চালু না থাকায় অনকলে চিকিৎসককে বাড়ি থেকে হাসপাতালে ডেকে আনার রুটিন থাকলেও সেই রুটিনও একাংশ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মানছেন না বলে প্রায়ই অভিযোগ উঠছে।গত উনিশ মার্চও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে স্ট্রোকে আক্রান্ত সুভাষ দাস (৫৮) নামের এক রোগী হাসপাতালে মৃত্যুর পর ক্ষুব্ধ শোকাহত পরিবার ও আত্মীয়স্বজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগী না দেখায় চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তুলে হাসপাতালে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এক চিকিৎসককেও নিগৃহীত করা হয়। পুলিশ ছুটে এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। চিকিৎসক নিগৃহীত করায় শোকাহত পরিবারের দুই আত্মীয়কে সেদিন হাসপাতালেই পুলিশ গ্রেপ্তারও করে। আঠারো মার্চ রাত পৌনে দুটোয় সিধাই মোহনপুর থেকে স্ট্রোকে আক্রান্ত সুভাষ দাসকে জিবির মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়েছিল। রাতে হাসপাতালের ওয়ার্ড থেকে অনকলে থাকা নিউরো সার্জনকে উপযুক্ত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য সুভাষ দাসকে এসে দেখার জন্য বাড়িতে ফোনে কল দেওয়া হয়। অভিযোগ,অনকলে সেই চিকিৎসক রোগী দেখতে রাতে আসেননি। পরদিন বেলা এগারোটা নাগাদ রোগীর মৃত্যুর পর কোনও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চিকিৎসা পরিষেবা না পেয়ে অবহেলা ও গাফিলতিতে রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ শোকাহতরা চিকিৎসককে নিগৃহীত করেন ও হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখান। পুলিশে মামলা হয়। যদিও ঘটনার গুরুত্ব বুঝে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার গাফিলতি হয়েছে কি না সেই বিষয়ে মেডিকেল কলেজের প্রফেসর ডা. জেএল বৈদ্যকে তদন্ত কমিটির প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করেন। পাঁচদিন সময় দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকার্য সম্পন্ন করে তদন্তের রিপোর্ট হাসপাতালের মেডিকেল সুপারের কাছে পেশও করা হয়। কিন্তু তদন্তে কী উঠে এসেছে, কোন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গাফিলতি পাওয়া গেছে কি না সেই বিষয়ে হাসপাতালের বা স্বাস্থ্য দপ্তরের কেউ কিছু জানাতে পারছেন না। তবে জিবি হাসপাতালে এই ধরনের ঘটনা নতুন কিছু নয়। ইতিপূর্বে বহুবার চিকিৎসার গাফিলতিতে অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ গিরে অবাঞ্ছিত ঘটনা, চিকিৎসক নিগৃহীত ও হাসপাতালে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর হয়েছে, পুলিশে মামলা হয়েছে ইত্যাদি। কিন্তু হাসপাতালে এতসব ঘটনার পরও স্বাস্থ্য দপ্তর ও হাসপাতাল ম্যানেজমেন্ট অথরিটির কোনও নড়নচড়ন নই। চিকিৎসার গাফিলতি ও অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠলেই প্রতিবার হাসপাতাল তরফে তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত করানো হয়। অভিযোগ, তদন্ত কমিটির রিপোর্টে কোনও সময়ই চিকিৎসায় গাফিলতি ও অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে এমন কোন কিছু উঠে এসেছে তার কোন নজির নেই। ইতিপূর্বের সব তদন্তের রিপোর্টে অশ্বডিম্ব উঠে আসায় শোকাহত মৃতের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনরা তদন্তের নামে সব ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। এদিকে, হাসপাতালের তদন্ত রিপোর্টে যা কিছু উঠে আসুক না কেন, রোগীর মৃত্যুর পর যে কারণে হাসপাতালে একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে সেই বিষয়ে হাসপাতাল অথরিটি ও স্বাস্থ্য দপ্তর কোন কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরপর ঘটনা ঘটেই চলেছে বলেও হাসপাতালের চিকিৎসকদেরই একাংশের অভিযোগ।
হাসপাতালের সব বিভাগে চব্বিশ ঘন্টা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রেখে রোগীর চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য বারবার দাবি উঠলেও সেইদিকেও হাসপাতাল অথরিটি ও স্বাস্থ্য দপ্তরের নজর নেই। প্রতিদিন রাত সাড়ে দশটার পর থেকে পরদিন সকাল নয়টা পর্যন্ত হাসপাতালের প্রায় সব বিভাগের জন্য রোগীর চিকিৎসার প্রয়োজনে বাড়ি থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে ডেকে আনার জন্য অনকল প্রথা চালু রয়েছে। কিন্তু একাংশ চিকিৎসক হাসপাতাল ওয়ার্ড থেকে রাতে অনকল পেয়েও রোগী দেখতে আসছেন না বলেও দীর্ঘদিনের অভিযোগ। গত উনিশ মার্চ সুভাষ দাসের মৃত্যু নিয়েও অনকলে চিকিৎসক ডাকার পরও যে আসেননি তার একটা বাস্তব চিত্র উঠে আসে। এমনকী হাসপাতালে নিয়ম রয়েছে যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের যেদিন রোগীর অ্যাডমিশন (ভর্তি) রাতে ওয়ার্ডে থাকার জন্য। সেই রুটিনও একাংশ চিকিৎসক মানছেন না বলেও অভিযোগ। সিনিয়র রেসিডেন্ট (এসআর) রাতে ওয়ার্ডে থাকার কথা থাকলেও তাতেও একাংশ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এসআর তাও মানছেন না। সরকারী ছুটির দিন হাসপাতালে কখন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগী দেখতে যাবেন সেটাও নির্ভর করছে একাংশ চিকিৎসকের উপর। সরকারী ছুটির দিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের একাংশ রুটিনে যাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ। প্রতিদিন সন্ধ্যারাতে চিকিৎসকদের টিম এক সঙ্গে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরে ঘুরে রোগী দেখার যে ভালো একটা রুটিন ছিল তাও অনেকদিন ধরে নেই। হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা সঠিকভাবে চলছে কি না, সব চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়মিত হাসপাতালে আসা-যাওয়া করছেন কি না তার কোন সঠিক নজরদারি ও পদক্ষেপও নেই স্বাস্থ্য দপ্তর ও হাসপাতাল অথরিটির।এইসব দেখতে আকস্মিক হাসপাতাল ভিজিটও নেই স্বাস্থ্য কর্তাদের, হাসপাতাল কর্তাদের।
অনলাইন প্রতিনিধি :-ষষ্ঠ 'বিমসটেক' শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান করতে বৃহস্পতিবার দু'দিনের সফরে থাইল্যান্ডে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র…
অনলাইন প্রতিনিধি :-চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত ৯৪ হাজার ৭২৩ জন মহিলা লাখপতি দিদি হয়েছেন।…
অনলাইন প্রতিনিধি:-দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলোর লাভের বড় অংশই এখন খেয়ে নিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। তাই ভোেট শেষ…
অনলাইন প্রতিনিধি:-রাজ্যে অনুপ্রদেশ রুখতে পুলিশ,বিএসএফ ও অন্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলি যৌথভাবে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন…
অনলাইন প্রতিনিধি :-ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগজিকিউটিভকাউন্সিলের সিদ্ধান্তকে সীলমোহর দিল মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক।কেন্দ্রীয় সরকারের এই নির্দেশ…
অনলাইন প্রতিনিধি :-গুজরাতে বড়সড় বিপত্তি যুদ্ধবিমান ভেঙে। বায়ুসেনার একটি যুদ্ধবিমান ভেঙে মৃত্যু হয়েছে এক পাইলটের।…