অনলাইন প্রতিনিধি :-ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজে ছাত্রছাত্রীদের পাস করিয়ে দেবার নাম করে ডা. সোমা চৌধুরী নামে জনৈকা অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে অর্থ আদায় করার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। যা রাজ্যের ইতিহাসে নজিরবিহীন। এমন অভিযোগ এই রাজ্যে এর আগে কখনও উঠেনি। এই ঘটনায় মঙ্গলবার রাজ্য বিধানসভায় কঠোর মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা। এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় বলেন, বিষয়টি আমি অত্যন্ত সিরিয়াস বলে মনে করি।আমি বিষয়টিকে সেভাবেই দেখছি।কাউকেই ছাড়া হবে না। বিষয়টি ক্রাইমব্রাঞ্চ তদন্ত করছে।ইতিমধ্যে ওই অধ্যাপিকা ডা. সোমা চৌধুরীকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।একই সাথে তার বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়ে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছে।নোটিশের জবাবে ডা. সোমা চৌধুরী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, তিনি কয়েকজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন এবং সুদ সহ সেই ঋণ পরিশোধ করেছেন। তার এই দাবির পক্ষে নথিপত্র ইত্যাদি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিধানসভায় কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ, ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজে পাস করিয়ে দেওয়ার নাম করে অর্থ আদায় করার ঘটনা সম্পর্কিত একটি দৃষ্টি আকর্ষণী নোটিশ উত্থাপন করেন। উক্ত নোটিশের উপর বিবৃতিদানকালে মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা বলেন, কয়েকজন মেডিকেল ছাত্র ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারী, ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ ও ড. বিআরএএম টিচিং হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেন্ডেটের কার্যালয়ে শারীর বিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক (ডা.) সোমা চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১ম পেশাগত এমবিবিএস বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষার ফলাফলের ক্ষেত্রে অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
এই অভিযোগ পাওয়ার পরই ত্রিপুরা সরকারের মেডিকেল শিক্ষা বিভাগের দাযিত্বপ্রাপ্ত, পরিচালক, ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ পরিদর্শন করেন এবং বিষয়টি অবিলম্বে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত ১ম পেশাগত বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া তিনজন এমবিবিএস শিক্ষার্থী, অধ্যাপক (ডা.) সোমা চৌধুরীর বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করে। অধ্যাপক (ডা.) সোমা চৌধুরীর এই অনৈতিক কাজ সম্পর্কে ত্রিপুরার একাধিক স্থানীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
প্রাপ্ত তথ্য এবং অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধ দমন শাখা, থানায় একটি এফআইআর দায়ের করে, যা ১২-০২-২০২৫ ইং তারিখে অপরাধ দমন শাখা পিএস মামলা নম্বর ২০২৫ টিপিসিবি-০০১ হিসাবে নথিভুক্ত হয়। মামলাটি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৮ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৮৮-এর ৭/৭এ/১১ ধারায় রুজু করা হয়। এফআইআর-এর তদন্ত চলমান রয়েছে।
এছাড়াও ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ অধ্যাপক (ডা.) সোমা চৌধুরীকে ০৭-০২-২০২৫ ইং তারিখে অবিলম্বে সাময়িক বরখাস্ত করে এবং তার বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়ে শোকজ নোটিশ জারি করে।
শোকজ নোটিশের জবাবে অধ্যাপক চৌধুরী অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন যে, তিনি কয়েকজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন এবং সুদসহ সেই ঋণ পরিশোধ করেছেন। তিনি পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য অর্থ গ্রহণের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। অধ্যাপক চৌধুরী তার দাবির পক্ষে নথিপত্র দাখিল করেন, যা বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে।পর্যালোচনা শেষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের তদন্তে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা ও সম্ভাব্য সহযোগীদের নাম প্রকাশিত হতে পারে।মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ত্রিপুরা সরকারের মেডিকেল শিক্ষা অধিদপ্তর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষায় মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ানে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনতে, দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা করেন।
ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার (পরীক্ষা, ০৭-০৩-২০২৫ তারিখে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাকেন্দ্র শাখার সম্মেলন কক্ষে ত্রিপুরা সরকারের মেডিকেল শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক, আগরতলা সরকারী মেডিকেল কলেজ এবং ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজের ০৯ জন সিনিয়র অধ্যাপক এবং ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার (পরীক্ষা) এর উপস্থিতিতে একটি বৈঠক আহ্বান করেন। বৈঠকে উপস্থিত সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন এবং সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেন যে, জাতীয় মেডিকেল কমিশন-এর নির্দেশিকা অনুসারে, বিশ্ববিদ্যালয় এমবিবিএস কোর্সের উত্তরপত্রগুলির কেন্দ্রীয় মূল্যায়ন শুরু করবে। বৈঠকে এটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ২০২৫ সাল থেকে (অর্থাৎ ১ম পেশাগত এমবিসিএস পরীক্ষা) কেন্দ্রীয় মূল্যায়ন শুরু হবে এবং কেন্দ্রীয় মূল্যায়ন কেন্দ্র ত্রিপুরা বিশ্ববিদালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও, এটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, মেডিকেল কলেজ (সরকারী / বেসরকারী) নির্বিশেষে উত্তরপত্রগুলির জন্য একটি একক কোডিং সিস্টেম (প্রতিটি উত্তরপত্রের জন্য একটি ইউনিক কোড) থাকবে এবং উত্তরপত্রের শীর্ষ পৃষ্ঠায় শিক্ষার্থীর বিবরণ মুছে ফেলা হবে এবং এই ইউনিক কোড নম্বর শুধুমাত্র বিশ্ববিদালয় কর্তৃপক্ষ জানবে। উত্তরপত্র মূল্যায়নকারী শিক্ষার্থীর পরিচয় বা নির্দিষ্ট মেডিকেল কলেজ সম্পর্কে কিছুই জানবেন না।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ বলেন, একা ডা. সোমা চৌধুরীর পক্ষে এই দুর্নীতি করা সম্ভব নয়। এর সাথে আরও অনেকেই যুক্ত আছে। শুধু তাই নয়, অনেকদিন ধরেই এই মারাত্মক দুর্নীতি চলছে বলে অভিযোগ তুলেন বিধায়ক শ্রীবর্মণ। এতবড় একটি ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরও এখনও পর্যন্ত কেন ওই অধ্যাপিকাকে গ্রেপ্তার করা হলো না? এই ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জবাব চান বিধায়ক শ্রীবর্মণ। তিনি আরও বলেন, ছাত্রদের কাছ থেকে অধ্যাপিকার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। টাকা দেওয়া সত্ত্বেও এরা পাস করতে পারেনি। সুদীপবাবুর অভিযোগ এই ঘটনার সাথে ত্রিপুরা ইউনিভার্সিটি এবং ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজের মধ্যে একটা যোগসাজশ রয়েছে। এদের খুঁজে বের করা হবে কিনা? জানতে চান বিধায়ক শ্রীবর্মণ। জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি ছাত্রদের সাথেও কথা বলেছি। আমি ছাত্রদের বলেছি, তোমার টাকা দিতে গেলে কেন? সে যাই হোক, বিষয়টি আমি সিরিয়াসলি দেখছি। এক্ষেত্রে কাউকে ছাড়া হবে না।দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, জানান, মুখ্যমন্ত্রী।
অনলাইন প্রতিনিধি :-আগামী তিন মাসের মধ্যেই স্মার্ট সিটি মিশন প্রকল্প সম্পন্ন হবে।আগরতলা শহর এলাকায় ৩৭৫.৯৭…
অনলাইন প্রতিনিধি :-ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল এপ্রিল মাসের শেষে…
অনলাইন প্রতিনিধি :-রাজ্য ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা টিএফএর সংবিধান সংশোধন করার নামে নিজেদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার…
অনলাইন প্রতিনিধি :-এডিসির ৩০২ টি স্কুলে শিক্ষক ১ রয়েছে।জাতীয় স্তরে প্রাথমিক স্কুলে ছাত্র- শিক্ষকের অনুপাত…
অনলাইন প্রতিনিধি :-বামফ্রন্টের টানা ২৫ বছরে রাজ্যের পর্যটন শিল্পের কোনও উন্নয়নই হয়নি। সম্পূর্ণ অন্ধকারে ডুবে…
একা রামে রক্ষা নেই, সুগ্রীব দোসর। কথাটা বোধহয় এক্ষেত্রে একেবারে যথার্থভাবে ধ্বনিত হয়।গত কয়দিন ধরেই…