পর্যটনের ভবিষ্যৎ!

 পর্যটনের ভবিষ্যৎ!
এই খবর শেয়ার করুন (Share this news)

ত্রিপুরার পর্যটন নিয়ে ইদানিং খুব চর্চা শুরু হয়েছে। ত্রিপুরার পর্যটনকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে ইতোমধ্যেই রাজ্য সরকার ব্র্যান্ড অ্যাম্বেসেডর নিযুক্ত করেছে।ভারতের ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক এবং বাংলার সুযোগ্য সন্তান সৌরভ গাঙ্গুলীকে ত্রিপুরার পর্যটনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বেসেডর করা হয়েছে।তিনি ত্রিপুরার পর্যটন নিয়ে সুন্দর সুন্দর কথা বলবেন,পর্যটনের প্রচার করবেন।ত্রিপুরায় যাতে মানুষ আসে,পর্যটনের স্বাদ অনুভব করেন তা মানুষকে বলবেন।গোটা দেশে,বিশ্বে এর প্রচার করবেন।সেজন্য রাজ্য সরকার তার সাথে চুক্তি করেছে।এর বিনিময়ে শ্রীগাঙ্গুলী কিছু পারিশ্রমিক নেবেন রাজ্যের কাছ থেকে।বর্তমানে এই লক্ষ্যে শ্রীগাঙ্গুলী রাজ্য সফরে রয়েছেন বলে জানা যায়।

এর আগে বহু বছর বামেরা এ রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল। পর্যটনকে নিয়ে শুধু কথাই হতো।পরিসংখ্যান বলতো রাজ্যে প্রতি বছরই পর্যটক বাড়তো।গত পাঁচ বছরেই একইভাবে পর্যটনের প্রচার হয়েছে।প্রসার কতখানি হয়েছে তা মানুষ তার উপলব্ধিতেই জানেন। বর্তমানে যিনি পর্যটনমন্ত্রী হয়েছেন তার একটা চেষ্টা রয়েছে এইটুকু বলা যায়। বাকিটা সময়ে এবং ভবিষ্যৎ বলবে।কোনও রাজ্যের বা দেশের পর্যটনের প্রথম এবং প্রধান শর্ত হচ্ছে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। এর আগে প্রয়োজন হলো যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোগত উন্নয়ন।রাস্তাঘাট ভালো থাকা চাই। বলা ভালো,এ রাজ্যে বর্তমানে যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন আগের চাইতে অনেক ভালো। রাস্তাঘাটও রাজ্যের আনাচে কানাচে রয়েছে।পর্যটনস্থল সেই অর্থে রাজ্যে এখনও সেইভাবে গড়ে উঠেনি।সেই নীরমহল,ডম্বুর,সিপাহিজলা, জম্পুই হিল,শৈবতীর্থ ঊনকোটি।হালে নারিকেলকুঞ্জ,ছবিমুড়া যুক্ত হয়েছে।কিন্তু সেইসব স্থানে কী “উপযুক্ত পর্যটন কাঠামো রয়েছে।

এ রাজ্যের পর্যটনে সবচেয়ে যেটার অভাব প্রধানত পরিলক্ষিত হয় তা হলো উপযুক্ত গাইডের অভাব।কোনও পর্যটনস্থলে পর্যটক যখন ঘুরতে যান বা ঘুরতে আসেন তার প্রথম প্রয়োজন ওই পর্যটনস্থল সম্পর্কে ইতিহাস জানা। সেক্ষেত্রে ট্যুরিস্ট গাইডের প্রয়োজন রয়েছে।যা এই রাজ্যে প্রায় নেই।এদেশে পর্যটনে যে সমস্ত রাজ্যগুলি উন্নত সে রাজ্যগুলিতে গাড়ি চালকরাই মূলত ট্যুরিস্ট গাইড।কিন্তু এ রাজ্যে তা নেই বললেই চলে।এ রাজ্যে গাড়ি চালকরা শুধু ফাটকাবাজিতে ব্যস্ত। কাকে ডিঙিয়ে কে খাবে
শুধু তাতেই ব্যস্ত। আমাদের রাজ্যে নারিকেল কুঞ্জে সবচেয়ে প্রথমে গড়ে উঠেছে হেলিপ্যাড। তার কী খুব প্রয়োজন ছিল?গাড়ির রাস্তা আগে প্রয়োজন। থাকার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। হোটেল থাকা চাই।যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো করা চাই। কিন্তু তা এখনও অপ্রতুল।

শুধু নারিকেল কুঞ্জ কেন সর্বত্র এ রাজ্যে পর্যটনস্থলগুলিতে থাকা খাওয়ার পরিকাঠামোর দারুণ অভাব।এর সাথে যুক্ত পর্যটকদের সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টি।যেমন বাথরুম, টয়লেট পর্যাপ্ত থাকা চাই। জলের বন্দোবস্ত থাকা চাই। কিন্তু এগুলির এ রাজ্যে বড়ই অভাব।বিশেষ করে পর্যটনস্থলগুলিতে।হোটেল, হোমস্টে, লজ ইত্যাদি বেশি করে গড়ে তুলতে হবে পর্যটনস্থলগুলিতে। পর্যটকদের উপযুক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।প্রয়োজন হোটেল, লজ ব্যবসায়ীদের উৎসাহ প্রদানের জন্য রাজ্য সরকারের তরফে বিশেষ প্যাকেজ চালু করা দরকার।জম্পুই এ রাজ্যের অন্যতম শৈলশহর।জম্পুই একসময় কমলালেবুর জন্য বিখ্যাত ছিল।কিন্তু জম্পুইর কমলা এখন অতীত।

কমলালেবুর উৎপাদন নিয়ে এখন আর কারও মাথাব্যথা নেই।সরকারী উদ্যোগ নেই। কমলালেবুর উৎপাদনের এখন নতুন জায়গা তৈরি হয়েছে রাজ্যের কিল্লায়। জম্পুইয়ের পরিকাঠামো আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তাহলেই পর্যটক আসবে। পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে যেমন গোটা বছরই পর্যটকদের ভিড় থাকে, আমাদের রাজ্যে জম্পুইকে কেন্দ্র করে সেইরকম পর্যটনের ভাবনাচিন্তা দরকার। রাস্তাঘাট, হোটেল, থাকার ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা সব কিছুরও পরিকাঠামোগত উন্নয়ন দরকার।শুধু ব্র্যান্ড অ্যাম্বেসেডর নিয়োগ করলেই পর্যটনে গতি আসে না। রাজ্য সরকারের একটা পর্যটন নীতি নিতে হবে।পর্যটনে গতি আনতে পরিকাঠামো সর্বাগ্রে বাড়ানো দরকার।যারা এর সাথে যুক্ত স্থানীয় মানুষ, চালক, হোটেল ব্যবসায়ী থেকে সংশ্লিষ্টদের মনোভাব পাল্টানো দরকার। স্থানীয়দের পর্যটনস্থল সম্পর্কে পর্যটকদের সামনে ইতিহাস তুলে ধরা দরকার।প্রয়োজনে এরা ট্যুরিস্ট গাইড হিসাবে কাজ করবেন অর্থের বিনিময়ে।রাজ্য সরকার তাদের ট্যুরিস্ট গাইড হিসাবে নিযুক্তি দেবেন প্রয়োজনীয় ট্রেনিংয়ের পরে।সব মিলিয়ে ভবিষ্যতে পর্যটনে ত্রিপুরা বিশ্বের দরবারে নিজেকে মেলে ধরবে এটা আশা করাই যেতেই পারে।

Dainik Digital

Dainik Digital

Leave a Reply

Your email address will not be published.