ফের চালু হচ্ছে ক্যান্সার শনাক্তকরণের মেশিন

দৈনিক সংবাদ অনলাইন প্রতিনিধি || আগরতলা অটলবিহারী আঞ্চলিক ক্যান্সার হাসপাতালে মানুষের শরীরে ক্যান্সার শনাক্তকরণে বহু মূল্যবান অত্যাধুনিক ১২৮ স্লাইস পেট-সিটি মেশিন পুনরায় চালু করা হবে।

দীর্ঘদিন পর অচল মেশিন সারাই করা হয়েছে। গত ২০২১ সালের আগষ্ট মাসে ১২৮ স্লাইস পেট-সিটি মেশিনটি অচল হয়ে পড়ায় মানুষের শরীরে ক্যান্সার রোগ শনাক্তকরণের কাজ বন্ধ হয়ে থাকে ৷ বিদেশ থেকে ১৩ কোটিরও কিছু বেশি টাকায় এই অত্যাধুনিক মেশিনটি বসিয়ে পরিষেবা চালুর পর মাত্র ৬ মাস পরিষেবা দেয়। ২০২১ সালের মার্চ মাসে পেট-সিটি মেশিন বসানো হয়। আবার সেই বছরই আগষ্ট মাসে আচমকাই অচল হয়ে পড়ে মেশিন। ৬ মাসে ৮০ জনের মতো মানুষ ক্যান্সার হাসপাতালে এসে তাদের শরীরে ক্যান্সার রোগ আছে কিনা তা জানতে পেট-সিটি মেশিনে পরীক্ষা করান। কিন্তু তারপর মেশিন একটানা দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে পড়ে থাকায় সাধারণ মানুষ ক্যান্সার রোগী কেউ ক্যান্সার রোগ শনাক্তকরণের পরীক্ষা করাতে পারেননি। রাজ্যের মানুষ যারা বহিঃরাজ্যে গিয়ে প্রচুর টাকা খরচ করে পেট-সিটি মেশিনে ক্যান্সার রোগ শনাক্তকরণ করাতে ছুটে যান সেই সব মানুষ মেশিন অচলে আগরতলায় সেই সুবিধা পাননি । বহিঃরাজ্যের হাসপাতালে পেট-সিটি মেশিনে। ক্যান্সার রোগ শনাক্তকরণে ২০ হাজার টাকার বেশি নেয়। আর আগরতলা অটলবিহারী আঞ্চলিক ক্যান্সার হাসপাতালে ক্যান্সার রোগ শনাক্তকরণে পুরো শরীর পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয় ১০ হাজার টাকা । আয়ুষ্মান, বিপিএল, অন্ত্যোদয়,প্রায়োরিটি ইত্যাদি ক্যাটাগরির মানুষ বিনা পয়সায় পরীক্ষা করাতে পারেন।

ক্যান্সার রোগ শনাক্তকরণে অত্যাধুনিক মূল্যবান এই মেশিনটি কেনার পর ছয় মাস না যেতেই অচল হয়ে পড়ায় বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। তারপর আবার দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে অবহেলায় পড়ে থাকায় ক্যান্সার রোগ শনাক্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা থেকে রাজ্যের মানুষ বঞ্চিত হন । ২০২১ সালের আগষ্ট মাসে অচল হওয়ার পর এখন মেশিন সারাই করা হয়।যে কোম্পানি থেকে মেশিন ক্রয় করা হয় সেই কোম্পানিকে বার্ষিক মেরামতির টাকা না দেওয়ায় ও বিদেশ থেকে স্পেয়ার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আনতে গিয়ে সারাইয়ে এত বিলম্ব হয় বলে ক্যান্সার হাসপাতালের দাবি। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব ডক্টর দেবাশিস বসু বুধবার রাতে জানান, পেট-সিটি মেশিন সারাই হয়ে গেছে। ক্যান্সার রোগ শনাক্তকরণে পরিষেবা দেওয়ার জন্য মেশিন তৈরি বলে স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব শ্রী বসু জানান। তিনি আরও বলেন, মেশিন সারাই হলেও পরীক্ষা করার সময় কলকাতা থেকে বিশেষ ধরনের ওষুধ আইসোটোপ আনতে হয়। এই ওষুধ কলকাতা থেকে বিমানে করে যেদিন আনা হবে সেদিন সাড়ে চার ঘন্টার মধ্যে সেই ওষুধ ক্যান্সার রোগ শনাক্তকরণে পরীক্ষায় ব্যবহার না করা হলে নষ্ট হয়ে যায়। তাই সেইভাবে কে কে পরীক্ষা করাবে চূড়ান্ত করেই কলকাতা থেকে মূল্যবান সেই ওষুধ আনতে হয় বলে স্বাস্থ্য সচিব জানান। কলকাতা থেকে সেই ওষুধ আনার জন্য সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান। ঔষুধ খুব শীঘ্রই আসবে। তাই পুনরায় পেট-সিটি মেশিনে ক্যান্সার রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষার কাজও শুরু হবে বলেও স্বাস্থ্য সচিব ডক্টর দেবাশিস রসু জানান। মেশিন পরিচালনা ও রিপোর্ট তৈরি করার জন্য অবসরে যাওয়ার পরও আগামী ৫ বছরের জন্য নিউক্লিয়ার মেডিসিনের ডা. অসীম সাহাকে নিযুক্ত করা হয় ৷