অনলাইন প্রতিনিধি :-কৃষককেই মানবরূপী ভগবান বলে মনে করেন রাজ্যের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী রতনলাল নাথ। মন্ত্রী মনে করেন, কৃষকের মাঝেই বিরাজমান রয়েছেন ঈশ্বর। বুধবার বামুটিয়া ব্লক এলাকার উত্তর লক্ষ্মীলুঙ্গায় বীজ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করতে গিয়ে এ কথা বলেন মন্ত্রী শ্রী নাথ। কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বলেন, টাকা পয়সা ধন দৌলত সব থাকতে পারে, কিন্তু কৃষক যদি অন্নের সংস্থান না করেন, তাহলে সবকিছুই বৃথা। কৃষকের উৎপাদিত ফসলেই সকলের ক্ষুধা মেটে।তাই যে অনুষ্ঠানেই তিনি যান, কৃষককে পা ছুঁয়ে প্রণাম করে গোটা দেশ এবং রাজ্যের কৃষকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান মন্ত্রী।তিনি বলেন, কৃষকই হলেন আমার ঈশ্বর।গ্রাম, গরিব ও কৃষক ডবল ইঞ্জিন সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায়।
মন্ত্রী বলেন, কৃষকরা জাতির মেরুদণ্ড। তাদের অবহেলা করা হলে কোনও দেশ রাজ্য উন্নতি করতে পারবে না।তাই রাজ্য সরকার কৃষকদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। উন্নত প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়ে ত্রিপুরার কৃষিক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি সাধন করাই সরকারের লক্ষ্য।
বুধবার বামুটিয়ার উত্তর লক্ষ্মীলুঙ্গায় নবনির্মিত বীজ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র উদ্বোধনকালে মন্ত্রী বলেন, খাদ্য শস্যের উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে বীজ পরিবর্তন করা জরুরি।
হাইব্রিড জাতের বীজ প্রতিবছর পরিবর্তন করতে হয়। উচ্চফলনশীল জাতের ধানের ক্ষেত্রে এই হার ন্যূনতম ৩৩% ডালজাতীয় শস্য ও তৈলবীজের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫০%।উন্নত বীজ ও আধুনিক চাষ পদ্ধতি কৃষকদের আর্থিক উন্নতি নিশ্চিত করতে পারে। রাজ্যকে আত্মনির্ভর করতে হলে খাদ্যশস্যের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিজ্ঞান ভিত্তিক চাষাবাদ, উন্নত কৃষি পরিকাঠামো এবং আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়িয়ে কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে সর্বাধিক প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন। তার বক্তব্য, খাদ্যশস্যের উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হলে বীজ পরিবর্তন করা জরুরি। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে সরকার ধান, চাল, ডাল জাতীয় শস্য ও তৈলবীজ প্রতি বছর কৃষকদের মধ্যে ভর্তুকীতে বিতরণ করে থাকে। যাতে প্রতি তিন বছর অন্তর উচ্চফলনশীল জাতের বীজ পরিবর্তনের মাধ্যমে ফলন বাড়িয়ে কৃষকদের আয় বাড়ানো যায়।
কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী রতনলাল নাথ এদিন আরও বলেন, ত্রিপুরার কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে।দেশের ১৪০ কোটি মানুষের খাদ্যের জোগানদাতা হলেন ২০ কোটি কৃষক।রাজ্যের ৪২ লক্ষ ২২ হাজার মানুষের খাদ্য জোগানদাতা ৪ লক্ষ ৭২ হাজার কৃষক। ত্রিপুরা বর্তমানে শস্য উৎপাদন হারে দেশের ছয় নম্বর স্থানে রয়েছে। প্রথম স্থানে রয়েছে পাঞ্জাব, এরপর হরিয়ানা, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশ।
রাজ্যে কৃষিজমির পরিমাণ সীমিত হওয়ায় বিজ্ঞানভিত্তিক চাষে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মাটির গুণগত মান পরীক্ষার মাধ্যমে চাষাবাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কম সময়ে অধিক উৎপাদনের লক্ষ্যে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যার মধ্যে উন্নতমানের কৃষি বাজার স্থাপন অন্যতম। রাজ্যের কৃষি বাজেট ২০১৭-১৮ সালে ছিল ৩৩০ কোটি ৯২ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা,যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে হয়েছে ৫৫৭ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা।
রাজ্য সরকার কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি সাধন করেছে। সিম উৎপাদনে ত্রিপুরা দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রযেছে, যেখানে প্রথম অবস্থানে রয়েছে জম্মু-কাশ্মীর। ফুলকপি উৎপাদনে ত্রিপুরা চতুর্থ, মটর, টমেটো ও কাঁঠাল উৎপাদনেও রাজ্য চতুর্থ স্থানে রয়েছে।’
২০১৫-১৬ সালে কৃষকদের মাসিক আয় ছিল ৬৫৮০ টাকা, যা ২০২৩-২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩,৫৯০ টাকায়। কৃষকদের আর্থিক উন্নতির লক্ষ্যে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ১ লক্ষ ১৭ হাজার ১০৮ জন কৃষকের কাছ থেকে ৪৪৬ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকার ধান ক্রয় করা হয়েছে।
ত্রিপুরা সরকার কৃষি যন্ত্রপাতির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০১৩-২০১৭ সালের মধ্যে মাত্র ২৬১১টি কৃষি যন্ত্র বিতরণ করা হয়েছিল। যেখানে ২০১৮-২০২৫ সালের মধ্যে ৪২,৬১৯টি কৃষি যন্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।এ জন্য’ ভর্তুকির পরিমাণ ২০৪ কোটি ৫২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
অনলাইন প্রতিনিধি :-দেখতেই সে নয়নাভিরাম।তার উপর তার লেজের দৈর্ঘ্য?রবীন্দ্রনাথের শ্যামা নৃত্যনাট্যে শ্যামার রূপে মুগ্ধ হয়ে…
অনলাইন প্রতিনিধি :-প্লাস্টিকের চায়ের কাপে চুমুক দিলে শেষ হতে পারে পুরুষত্ব! এমনকী, হরমোন সংক্রান্ত আরও…
লন্ডনের হিথরো থেকে মুম্বইয়ে রওনা দিয়েছিল ভার্জিন আটলান্টিকের বিমানটি। ছিলেন ২০০–র বেশি ভারতীয় যাত্রী। জরুরি…
অনলাইন প্রতিনিধি :-ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রায় প্রতিটি দপ্তর বর্তমানে চরম কর্মী সংকটে ধুঁকছে। ফলে যে…
অনলাইন প্রতিনিধি :-প্রায় ১২ কোটিটাকা ব্যয়ে বাধারঘাটে দশরথ দেব স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ২০০ শয্যা বিশিষ্ট যুব…
অনলাইন প্রতিনিধি:-রাজ্যের শান্তি সম্প্রতি ও সংহতি রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।যাতে আমাদের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন…