দৈনিক সংবাদ অনলাইন প্রতিনিধি।। ২০১৮ তে মিথ্যা এবং প্রবঞ্চনার উপর দাঁড়িয়ে যারা সরকার গড়েছে , তারা পাঁচ বছরে রাজ্যে প্রায় ৪০ লক্ষ জনগণের উপর অত্যাচার, ভাওতাবাজি, গণতন্ত্রকে শ্বাস রুদ্ধ করে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি, করে তারা আজ থেকে কোমায় চলে গেছে। রাজ্যে ১৬ ফেব্রুয়ারী নির্বাচন ঘোষণা হয়েছে। কোমায় চলে যাওয়ার ক্ষেত্রে অক্সিজেন দিয়ে রাখা ছাড়া গতি নেই। আগামী ২ মার্চ রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার গঠন হচ্ছে। বুধবার নির্বাচন কমিশন নির্বাচন ঘোষণা করেছে। আমরা ক্ষমতায় এসে কর্মচারীদের সাথে এই পাঁচ বছরে যত বঞ্চনা হয়েছে তার অবসান করব। ১০৩২৩, তাদের চাকরি ফিরিয়ে দেব। এক লক্ষেরও বেশি যারা সামাজিক ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তাদের ভাতা ফিরিয়ে দেব। স্বাস্থ্য মিশন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মিত যাদের চাকরি গেছে, তাদের আমরা ফিরিয়ে দেব।
জনজাতিরা যারা সবচেয়ে বেশি এই সরকারের আমলে বঞ্চিত, তাদের সবদিক থেকে উন্নয়ন আমরা করবো। বিজেপি বিরোধী ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির সাথে আলোচনা চলছে। একজোট হয়ে বিজেপি র বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের জয় সুনিশ্চিত। বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে রাজ্যের জনগণও যেভাবে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দিচ্ছে এ সরকার যে আর ক্ষমতায় থাকবে না তা পরিষ্কার হয়ে উঠছে। ত্রিপ্রামথা দলের সাথেও আলোচনা হয়েছে। গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড মানে ভৌগোলিক অবস্থানগত নয়। সংবিধানের মধ্যে থেকে উপজাতিদের সার্বিক যতটা সম্ভব সর্বাধিক উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
কথাগুলি বললেন, সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী। বুধবার তিনি সিপিআইএমের প্রকাশ্য সমাবেশে বিলোনিয়া মহাকুমার বড়পাথরী বাজারে বক্তব্য রাখেন। রাজ্যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, রেগায় ২০০ দিনের কাজ ও মজুরি ৩৪০ টাকা করা, প্রতি মাসে নিয়মিত সামাজিক ভাতা প্রদান, বছরে পঞ্চাশ হাজার চাকরি, বিভিন্ন দপ্তরের শূন্য পদ পূরণ, বিজেপি সরকারের প্রতিশ্রুতি খেলাপ, এসব বিষয়গুলিকে সামনে রেখে এদিন এই প্রকাশ্য সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বক্তব্যে জিতেন্দ্র চৌধুরী অভিযোগ তুলে বলেন, বিজেপি সাম্প্রদায়িক দল। তাদের তথাকথিত হিন্দু রাষ্ট্র নির্মাণের নামে গত পাঁচটি বছর কিভাবে সংবিধান, গণতন্ত্র, আইন কানুন মানুষের নাগরিক অধিকার, বাঁচার অধিকার, এদেশের সমাজ, সংস্কৃতি ঐতিহ্যকে ধ্বংস করে দিয়েছে।
এদের হাত থেকে ত্রিপুরা রাজ্যকে মুক্ত করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার মধ্য দিয়ে শুধুমাত্র ত্রিপুরা থেকে বিজেপিকে তাড়াবো না, ত্রিপুরায় বিজেপির পতনের মধ্য দিয়ে আগামী ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে দিল্লি থেকে বিজেপি সরকারের পতন শুরু হবে। নির্বাচন আজ ঘোষণা হওয়ার পর থেকে আগামী ২৮ দিনের মধ্যে আমাদের মোক্ষম এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শাসক দল মরিয়া হয়ে নানা ধরনের ফন্দি ফিকির করবে। মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাবে। সাথে তাদের তৈরি করা সন্ত্রাসবাদি বাইক বাহিনী। এর জন্য সবাইকে নিয়ে আমাদের কিছু আলোচনা কিছু সিদ্ধান্ত কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করার দরকার।
রাজ্যের রাজনৈতিক যে পরিবর্তন হতে চলেছে তা অভূতপূর্ব। আমরা ১৬ ই ফেব্রুয়ারি তা প্রত্যক্ষ করব।
রাজ্যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ,গত পাঁচ বছরে রাজ্যের মানুষ যে জীবন জীবিকা হারিয়েছে আমরা যথাসম্ভব এগুলো তাদেরকে পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নেব। অন্যদিকে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান যেগুলোকে অচল করে দেয়া হয়েছে পঞ্চায়েত, ভিলেজ কমিটি, কলেজ স্টুডেন্ট কাউন্সিল, কোঅপারেটিভ সংস্থা সব জায়গায় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আবার উদ্ধার হবে। কর্মচারীদের প্রসঙ্গে বলেন, যাদের অন্যভাবে চাকরি বাদ দেওয়া হয়েছে,পাওয়া উচিত তাদের সবার জীবিকার ব্যবস্থা করব, পেনশনারসসহ কর্মচারীদের বেতন-বঞ্চনা সব নিয়মিত হবে।
জিতেন চৌধুরী বলেন, পাঁচ বছরে যারা ত্রিপুরার রাজ্যকে লুট করেছে, এক এক শাসক দলের নেতা কোটি কোটি টাকা বানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি বিজেপিকে ত্রিপুরা ছাড়া করার মধ্য দিয়ে রাজ্যে সুষ্ঠু গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য রাজ্যের জনগণ প্রস্তুত হয়েছেন। বিগত নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিপিআইএম জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। ১৮ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী,
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী থেকে শুরু করে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজ্যে এসে যেসব কথাবার্তা বলে গেছেন, উন্নয়নের প্রশ্নে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার কিছুই নেই। কই তখন তো বলেনি বিগত ২৫ বছরে রাজ্যের উন্নয়ন হয়নি।
জিতেন চৌধুরী বলেন, আমি বলতে চাই বিজেপি সরকারের আমলে রাজ্যে কয়টা হাসপাতাল, কয়টা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কয়টি শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। সবই হয়েছে বামফ্রন্টের আমলে। এ সরকার কি কি কাজ করেছে জনগণের জন্য। শুধু বলছে ২৫ বছরে ২৫ বছরে কিছুই হয়নি। কিছুই হয়নি। আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে রাজ্য কোন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে তা ক্রাইম রিপোর্ট এই স্পষ্ট। বলেন আপনারা তৈরি হোন। প্রস্তুত হন। সরকার পরিবর্তনের জন্য। আগামী দুই মার্চ দল রাজ্যে ক্ষমতায় আসছে। তা নিশ্চিত।
এ দিনের সমাবেশে রাজনগর বিধানসভার এলাকার বিধায়ক সুধন দাস, দক্ষিণ জেলা সিপিআইএম সম্পাদক বাসুদেব মজুমদার, এবং বিলোনিয়া মহকুমা সম্পাদক তাপস দত্ত বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে দলীয় মিছিল এসে এই দিন সমাবেশে মিলিত হয়।
অনলাইন প্রতিনিধি :-ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল এপ্রিল মাসের শেষে…
অনলাইন প্রতিনিধি :-ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজে ছাত্রছাত্রীদের পাস করিয়ে দেবার নাম করে ডা. সোমা চৌধুরী নামে…
অনলাইন প্রতিনিধি :-রাজ্য ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা টিএফএর সংবিধান সংশোধন করার নামে নিজেদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার…
অনলাইন প্রতিনিধি :-এডিসির ৩০২ টি স্কুলে শিক্ষক ১ রয়েছে।জাতীয় স্তরে প্রাথমিক স্কুলে ছাত্র- শিক্ষকের অনুপাত…
অনলাইন প্রতিনিধি :-বামফ্রন্টের টানা ২৫ বছরে রাজ্যের পর্যটন শিল্পের কোনও উন্নয়নই হয়নি। সম্পূর্ণ অন্ধকারে ডুবে…
একা রামে রক্ষা নেই, সুগ্রীব দোসর। কথাটা বোধহয় এক্ষেত্রে একেবারে যথার্থভাবে ধ্বনিত হয়।গত কয়দিন ধরেই…