ভোট বিদেশি হস্তক্ষেপ।।

 ভোট বিদেশি হস্তক্ষেপ।।
এই খবর শেয়ার করুন (Share this news)

মার্কিন প্রেসিডেন্ট গণতান্ত্রিক রায়ের দুই লাইনের এক মন্তব্যে, শুরু হয়েছে।পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে যে, ভারতের বিদেশমন্ত্রকও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে। ‘ভারতের নির্বাচনে বিদেশি হাত রয়েছে’,-এমন একটি মন্তব্য করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ঠিক কী বলেছেন ট্রাম্প? তিনি বলেছেন, ‘ভারতে ভোটদানের হার বৃদ্ধি করতে কেনা আমরা ২১ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ১৮২ কোটি টাকা) খরচ করবো? আমার মনে হয় অন্য কাউকে জেতানোর জন্য চেষ্টা করা হয়েছিল। বিষয়টি ভারত সরকারকে জানাবো। বিষয়টি একটি বড়সড় চক্রান্ত হতে পারে’। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরই তুমুল শোরগোল পড়ে গেছে ভারতীয় রাজনীতিতে। ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর, বিরোধী কংগ্রেসকে বিদেশি ইন্ধনের জন্য দায়ী করে লাগাতর আক্রমণ শানিয়ে চলেছে শাসক দল বিজেপি।
এখানেই শেষ নয়, ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলন করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের বিদেশমন্ত্রকও। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্টভাবে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যে রীতিম চিন্তার কারণ রয়েছে। শুধু তাই নয়, এটি গভীর উদ্বেগের বিষয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ফলে ভারতের রাজনীতিতে এই নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। দাবি পাল্টা দাবি, অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে সরগরম হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতির অঙ্গন। উল্লেখ্য, ভারতের ভোটারদের বুথমুখী করতে আমেরিকার পূর্বতন বাইডেন প্রশাসন ২১ মিলিয়ন ডলার অনুদান বরাদ্দ করেছিল। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে সম্প্রতি ট্রাম্প সেই অনুদান বাতিল করে দিয়েছেন। কেন এই অনুদান বাতিল করেছেন? গত বুধবার তার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়েই এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের ওই মন্তব্যের পর শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলন করে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘মার্কিন অনুদান বন্ধের বিষয়টি এবং তা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য আমাদের দৃষ্টিগোচরে এসেছে। এই ধরনের মতামত সত্যিই গভীর উদ্বেগের। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ নিয়ে বড়সড় আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওই মন্তব্য।” সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা এ বিষয়ে তদন্ত করে দেখছেন বলেও জানান বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র। তবে এ বিষয়ে এখনই আর কিছু বলা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন। পরিস্থিতির উপর কড়া নজরদারি রয়েছে সরকারের। এ কথাও জানান বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র।
অন্যদিকে খবরে প্রকাশ, এই অর্থ ভারতে নয়, বরং পাঠানো হয়েছিল ভারতের পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে। আমেরিকার অনুদান বন্ধ নিয়ে যে রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে দাবি করা হয়েছে, ২১ মিলিয়ন ডলারের অনুদান ভারত নয়, বরং বাংলাদেশের ভোটে দেওয়া হয়েছে। খবরে প্রকাশ ২০০৮ সালের পর থেকে ভারতের নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও প্রোজেক্টেই মার্কিন অনুদান বরাদ্দ হয়নি। ২১ মিলিয়ন ডলারের অনুদান বরাদ্দ করা হয়েছিল বাংলাদেশের জন্য। বাংলাদেশে ওই প্রকল্পের নাম ছিল ‘আমার ভোট আমার’।
উল্লেখ্য, বা ইউনাইটেড স্টেটস ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট-এই নামটি আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিত নাম। এই সংস্থার মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসন বিভিন্ন দেশে ত্রাণ বা অনুদান পাঠায়। খবরে প্রকাশ, মার্কিন প্রশাসন ২০২২ সালে ২১ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছিলে বাংলাদেশর জন্য। খবরে আরও প্রকাশ, ২০২৪ সালে ওই বরাদ্দের মধ্যে ১৩ মিলিয়ন ডলার পাঠানো হয়েছিল ‘ছাত্রদের সজাগ করার’ কর্মসূচিতে। লক্ষণীয় বিষয় এবং ঘটনা হলো, এর মাস সাতেক পরই ছাত্র বিক্ষোভের জেরে দেশ ছাড়তে হয়েছিল শেখ হাসিনাকে। ফলে বাংলাদেশে অস্থির পরিস্থিতির পিছনে পূর্বতন বাইডেন প্রশাসনের যে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ইন্ধন ছিল, তা কিন্তু স্পষ্ট হচ্ছে। এখন সব থেকে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, ২১ মিলিয়ন ডলার আসলে এসেছে কোথায়? ভারতে না বাংলাদেশে? বিষয়টি প্রকাশ্যে আসা অত্যন্ত জরুরি। ট্রাম্পের মন্তব্য এবং অভিযোগও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা উচিত। কেননা বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভোট এবং জনগণের মতামতকে প্রভাবিত করতে ‘বিদেশি হস্তক্ষেপ’ অত্যন্ত উদ্বেগের। কোনওভাবেই এটা বরদাস্ত করা যায় না। এখন দেখতে হবে ট্রাম্পের অভিযোগ কতটা সঠিক? নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে? সেটাও খুঁজে বের করা দরকার।

Dainik Digital

Dainik Digital

Leave a Reply

Your email address will not be published.