বিভৎস ট্রেন দুর্ঘটনা, ছিটকে গেল চলন্ত তিনটি মালগাড়ির কামরা!!
রাজস্থান ক্রাইসিস

একদিকে সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচন, অন্যদিকে কংগ্রেসশাসিত মরুরাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীর পদ। এই দুই ইসুতে দিল্লী এবং রাজস্থানে রাজনৈতিক টানাপোড়েন এখন তুঙ্গে। সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি পদে গান্ধী পরিবারের আস্থাভাজন অশোক গেহলট পা বাড়াতেই রাজস্থানের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? এই প্রশ্নে জটিলতা, অস্থিরতা যেমন এখনও অব্যাহত। তেমনি একের পর এক নাটকও মঞ্চস্থ হয়ে চলেছে। শচীন পাইলট ও গেহলট শিবিরের মধ্যে চলছে টানটান উত্তেজনা। এই আবহের মধ্যেই পদ্ম শিবিরকে নিশানা করেছেন মরুরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তার বক্তব্য, মহারাষ্ট্র মডেলে রাজস্থানেও সরকার ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বিজেপি।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজের ঘরে যখন আগুন জ্বলে উঠে। চূড়ান্ত অশান্তি তৈরি হয়। তখন এই পরিস্থিতির জন্য অন্য দলের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করার কৌশল নতুন নয়। রাজস্থান নিয়েও একটু দেরিতে হলেও মুখ্যমন্ত্রী গেহলট দোষ চাপালেন বিজেপির উপর। তার দাবি বিজেপি সরকার ফেলে দিতে যাবতীয় কলকাঠি নাড়াচ্ছে।
আসলে প্রকৃত ঘটনা হলো, মুখ্যমন্ত্রী গেহলট যদি কংগ্রেস সভাপতি হোন, তাহলে রাজস্থানে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? এই প্রশ্নেই যাবতীয় অস্থিরতা তৈরি হয়। গেহলট শিবির চাইছে, তারই অনুগত কেউ তার অবর্তমানে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসুক।

কিন্তু কংগ্রেস হাইকমাণ্ডের ইচ্ছা, মুখ্যমন্ত্রী হোক শচীন পাইলট। সমস্যা তৈরি হয় এখানেই। গেহলট শিবিরের বিধায়করা কিছুতেই শচীন পাইলটকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মানতে নারাজ। প্রায় ৯০ জন বিধায়ক একসাথে পদত্যাগের হুমকি দিয়ে পাল্টা কংগ্রেস হাইকমাণ্ডের উপর চাপ সৃষ্টি করার কৌশল নেয়। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠে।
আস্থাভাজন অশোক গেহলট কংগ্রেস হাইকমাণ্ডের ক্ষোভের মুখে পড়ে। এই যদি পরিস্থিতি হয়, তাহলে সভাপতি হওয়ার পর গেহলট যে গান্ধী পরিবারের অনুগত থাকবে তার কি গ্যারান্টি? স্বাভাবিকভাবেই পাল্টা চাপ তৈরি করে কংগ্রেস হাইকমাণ্ডও।

সেই চাপে পড়ে এখন গেহলটও অশান্তির পিছনে নিজের ভূমিকার কথা অস্বীকার করছেন। তার বক্তব্য, ‘পরিস্থিতি আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। বিধায়করাই রেগে গিয়েছেন।’ কিন্তু তার এই ‘সাফাই’ কংগ্রেস হাইকমাণ্ডের কাছে যথেষ্ট মনে হচ্ছে না। এরপরই সভাপতির দৌড়ে গেহলটের জায়গায় খাড়গে এবং দিগ্বিজয়ের নাম নিয়েও জোর আলোচনা শুরু হয়ে যায়। ফলে নাটকের যবনিকাপাত কিভাবে হবে? তা এখনও কেউ বলতে পারছে না। আরও নাটক বাকী আছে। শুধু তাই নয়, শেষ বয়সে এসে অশোক গেহলটের ভাগ্যে কী জুটে? সেটাও বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। কংগ্রেস সভাপতির দৌঁড় থেকে ছিটকে যাবেন না তো? থাকবে তো মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার ?

সংবাদে প্রকাশ, দলে এই বিদ্রোহের মধ্যেই রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট বুধবার দিল্লীতে কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সাথে দেখা করবেন। এরপর পরিস্থিতি এবং জল কোন্ দিকে গড়ায়, তা এখনই হলফ করে বলা যাচ্ছে না।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, গত দেড় বছর ধরে একের পর এক রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী বদল করেছে বিজেপি। কেউ কোথাও একটি টুঁ শব্দও করেনি। কিন্তু কংগ্রেসের ক্ষেত্রে একটিমাত্র রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী বদল করতে গিয়েই গান্ধী পরিবারের নাস্তানাবুদ অবস্থা।

যা দেখে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, প্রথমত কংগ্রেস হাইকমাণ্ডের কর্তৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়েছে। দ্বিতীয়ত, আহমেদ পাটেল থেকে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মতো ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’-দের অভাবে ভুগছে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব। সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, যিনি কংগ্রেসের হাল ধরবেন বলে সব ঠিকঠাক, তাকেই দেখা গেল তার পদ নিয়ে সবথেকে বেশি চিন্তিত! ফলে, নাটকের যবনিকা পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনও পথ নেই।