স্ট্র্যাটেজি ও বিতর্ক!!

এই খবর শেয়ার করুন (Share this news)

অনলাইন প্রতিনিধি :-একদেশ এক নির্বাচন’ -এই ইস্যুতে গত বেশ কিছুদিন ধরেই জাতীয় রাজনীতি তোলপাড়।আসলে এক দেশ এক নির্বাচন নীতি নূতন কোন দাবি নয়।দেশ স্বাধীন হওয়ার পর টানা বেশ কয়েকবছর একসঙ্গে দেশে সব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।অর্থাৎ ‘ওয়ান ন্যাশন ওয়ান ইলেকশন’ কথার সহজ অর্থই হচ্ছে গোটা দেশে একটাই নির্বাচনের ব্যবস্থা থাকবে।যার মানে দাঁড়ায়,একই সময়ে দেশে লোকসভা এবং সবগুলো রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।যদি এক সাথে নির্বাচন হয়,তাহলে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের মেয়াদ একই সময়ে শেষ হবে। বর্তমানে দেশে এক এক রাজ্যে এক সময়ে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।যে রাজ্যে যখন সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে সেই রাজ্যে তখন বিধানসভার ভোট হয়।আর কেন্দ্রে সরকারের ৫ বছরের মেয়াদ যখন শেষ হয় তখন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়-এটাই হলো দেশের বর্তমান বিধি ব্যবস্থা।১৯৬৭ সাল পর্যন্ত দেশে লোকসভা এবং বিধানসভার নির্বাচনগুলো একসঙ্গে হয়েছিল।কিন্তু ১৯৮৩ সালে নির্বাচন কমিশন প্রথমবার দেশে যৌথ নির্বাচন প্রক্রিয়া চালু করার প্রস্তাব দিয়েছিল।কিন্তু সেই প্রস্তাবকে সমর্থন করেনি তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার।বলা হয়েছিল,ভারতের মতো যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর শাসনব্যবস্থায় যেখানে প্রাদেশিক সরকারের অস্তিত্ব রয়েছে,আবার কেন্দ্রেও একটি শক্তিশালী সরকারের অস্তিত্ব থাকছে-সেক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা ভারতে প্রযোজ্য ও কার্যকরী হতে পারে না।যদিও ল কমিশন এই প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন কংগ্রেস সরকারের মতোই লালকৃষ্ণ আদবানির মতো রাজনীতিবিদও ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ নীতির বিরোধিতা করেছিলেন।এই সার্বিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সেই সময় এই নীতি থেকে সরে এসেছিল দেশ।কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একাধিকবার এক দেশ এক নির্বাচনের পক্ষে জোর সওয়াল করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের ইস্তাহারেও এক দেশ এক নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।২০১৯ সালেও প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশে এক সঙ্গে সব নির্বাচনের জন্য পুনরায় সরব হলেন।২০১৬ থেকেই বিভিন্ন সময়ে ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ সংক্রান্ত প্রস্তাব খতিয়ে দেখেছে
পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডিং কমিটি,ল কমিশন এবং নীতি আয়োগ।এরা প্রায় প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা করে রিপোর্ট জমা দিয়েছে।দুই প্রস্তাবে ইতিবাচক মতামত দেওয়া হলেও সংসদে আলোচনা করেই যে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া শ্রেয়,এই সম্পর্কে সমস্ত পক্ষই রিপোর্টে উল্লেখ করেছে।তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ ব্যবস্থা চালু করতে গেলে সংবিধান সংশোধন জরুরি।অথচ দেশের বিরোধীরা একজোট হয়ে এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।এর পেছনে যথেষ্ট সঙ্গত কারণ রয়েছে।এক সঙ্গে নির্বাচন করানোর সুবিধা নিয়ে শাসক দল বা সরকার পক্ষ অর্থাৎ বিজেপি নেতৃত্ব যতই উঁচু গলায় কথা বলুন না কেন,এটা বাস্তব সত্য যে,’এক দেশ এক নির্বাচন’ হলে এই নীতিতে একটি মাত্র দলই লাভবান হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।কারণটা হচ্ছে, সাধারণত গোটা দেশে সরকারের যত উন্নয়নমূলক ও জনমুখী প্রকল্প রূপায়িত হয়,তার সবগুলোই কেন্দ্রের হাত দিয়েই রাজ্যগুলো পেয়ে থাকে।অর্থাৎ ভোটাররা তখন নিজের সুযোগ-সুবিধা আদায় করার কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রে এবং রাজ্যে একটি দলকেই ভোট দেবে।এতে করে গণতন্ত্রে বহুদলীয় ব্যবস্থা যেমন মুখ থুবড়ে পড়বে, ঠিক সেই সাথে একটি দল কেন্দ্রে ও সবগুলি রাজ্যে থাকার সুবাদে দেশে স্বৈরাচারী এককেন্দ্রিক ব্যবস্থা প্রকারান্তরে কার্যকরী হয়ে যাবে। এভাবেই গণতন্ত্রের পরিসর সংকীর্ণ হয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার অস্তিত্বকে বিপন্ন করবে।শুধু তাই নয়,নির্বাচনের খরচ সামাল দিতে গিয়ে বড় জাতীয় দলগুলোর কাছে আঞ্চলিক ‘ছোট দলগুলো এঁটে উঠতে না পেরে হারিয়ে যাবে। এতে করেই আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং আঞ্চলিক দাবি ও মতামত যখন জাতীয় ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে না,তখন এর থেকেই তৈরি হতে পারে বিদ্বেষ।বিরোধীদের অভিযোগ,কেন্দ্রের বর্তমান সরকার স্রেফ এই কারণেই নিজেদের ক্ষমতা অটুট রাখার স্বার্থে এবং নিজ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে এই নতুন ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকতে চাইছে যা বিপজ্জনক প্রবণতা।বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের যে অভিন্নতা বর্তমান দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় রয়েছে,তা নির্বাচনি ব্যবস্থা বদলের মধ্য দিয়ে কতটা অটুট রাখা সম্ভব সেই প্রশ্ন কিন্তু একেবারে নস্যাৎ করা যায় না।

Dainik Digital

Share
Published by
Dainik Digital

Recent Posts

শুরু হলো পর্ষদের উত্তরপত্র মূল্যায়ন!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল এপ্রিল মাসের শেষে…

21 hours ago

টিএমসি কাণ্ড, ঋণ নিয়েছিলেন অধ্যাপিকা!তদন্ত চলছে, কাউকে ছাড়া হবে না বিধানসভায় কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজে ছাত্রছাত্রীদের পাস করিয়ে দেবার নাম করে ডা. সোমা চৌধুরী নামে…

21 hours ago

নিজেদের অধিকার রক্ষায় বৈঠকে যাচ্ছে টিএফএর আজীবন সদস্যরা।।

অনলাইন প্রতিনিধি :-রাজ্য ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা টিএফএর সংবিধান সংশোধন করার নামে নিজেদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার…

22 hours ago

এডিসির ৩০২ স্কুলে ১ জন করে শিক্ষক, ছাত্র সমস্যা নিরসনে সরকার আন্তরিক, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী।।

অনলাইন প্রতিনিধি :-এডিসির ৩০২ টি স্কুলে শিক্ষক ১ রয়েছে।জাতীয় স্তরে প্রাথমিক স্কুলে ছাত্র- শিক্ষকের অনুপাত…

22 hours ago

কাজ করেনি,ফেরত গেছে ২২.৯১ কোটি টাকা,বাম আমলে অন্ধকারে ডুবে ছিল রাজ্যের পর্যটন: সুশান্ত।।

অনলাইন প্রতিনিধি :-বামফ্রন্টের টানা ২৫ বছরে রাজ্যের পর্যটন শিল্পের কোনও উন্নয়নই হয়নি। সম্পূর্ণ অন্ধকারে ডুবে…

23 hours ago

জাল ওষুধের রমরমা।

একা রামে রক্ষা নেই, সুগ্রীব দোসর। কথাটা বোধহয় এক্ষেত্রে একেবারে যথার্থভাবে ধ্বনিত হয়।গত কয়দিন ধরেই…

23 hours ago