হাড় না কেটেই বিরল হার্ট সার্জারি হায়দরাবাদে

অনেক হাসপাতাল বিজ্ঞাপন দেয়, তারা মাত্র চার ইঞ্চি কেটে সফল ভাবে হার্ট সার্জারি করে। সেখানে হতবাক করা কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলল হায়দরাবাদের একটি হাসপাতাল। এখানকার নিজাম ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এনআইএমএস)-এর হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা ৬৭ বছর বয়সি একজন রোগিণীর শরীরে বিরল হার্ট সার্জারি করেছেন। এটি তেলঙ্গানার সরকারি হাসপাতাল।এখানে বুকের হাড় না কেটেই মিনিমাল ইনভ্যাসিভ ট্রান্সক্যাথিটার মিট্রাল ভালভ রিপ্লেসমেন্ট, সংক্ষেপে টিএমভিআর করলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।বিষয়টা কী? দেবাম্মা নামে ৬৭ বছরের এক প্রৌঢ়ার মাইট্রাল ভালভ প্রতিস্থাপনের জন্য হার্ট সার্জারি হয়েছিল ২০১৫ সালে। কিন্তু ইদানীং ফের তার হার্টে সমস্যা দেখা দেয়। দেবাম্মাকে চিকিৎসকরা জানান, তার মাইট্রাল ভালভ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। দেবাম্মার চিকিৎসার ইতিহাস পর্যালোচনার পর এবং তার বয়সের কথা বিবেচনায় করে হাসপাতালের ডাক্তারবাবুরা টিএমভিআর পদ্ধতি ব্যবহার করে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।

এটি এমন এক হার্ট সার্জারি যা ওপেন হার্ট সার্জারি না করেই ক্ষতিগ্রস্ত মাইট্রাল ভালভ প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়। হায়দরাবাদের নিজাম ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সের ডাক্তারবাবুরা মাত্র তিন ঘণ্টায় সেই অসাধ্য সাধন করলেন বুকে কোনও কাটাছেঁড়া না করেই। বর্তমান সময়ে – কার্ডিওলজির তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আছে— কার্ডিওলজি ইন্টারভেনশন বা অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি, কার্ডিয়াক ডিভাইস যেমন পেসমেকার, আইসিডি, সিআরটি এবং স্ট্রাকচারাল হার্ট ডিজিজ। স্ট্রাকচারাল হার্ট ডিজিজের নতুন দিক হল ‘টাভি’। এটা.- হল মূলত মিনিমাল ইনভ্যাসিভ সার্জারি যেখানে বুকের হাড় কাটার দরকার পড়ে না। পায়ে ছোট ছিদ্র বা ইনশিসন করে সেখান দিয়েই ভালভে অপারেশন করা হয়। অ্যাওর্টিক ভালভ স্টেনোসিসে আক্রান্ত হলে এই ধরনের অস্ত্রোপচার করা হয় বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, সার্জারি চলাকালীন একটি নমনীয়, ফাঁপা ক্যাথিটার একটি স্থানীয় রক্তনালীর মাধ্যমে কুঁচকিতে একটি ছোট ছিদ্র দিয়ে ঢোকানো হয়, যা হার্টে পৌঁছে সফল ভাবে দেবাম্মার হার্টের মাইট্রাল ভালভটি প্রতিস্থাপন করে। চিকিৎসকদের মতে, ক্যাথিটার ব্যবহার করে এনআইএমএস (নিমস)-র,ইতিহাসে প্রথম মাইট্রাল ভালভ প্রতিস্থাপন। দেবাম্মার বয়স যেহেতু ৬৭ বছর,
তাই তাকে ওপেন হার্ট সার্জারি করা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেছিলেন ডাক্তাররা।
নিমসের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ যথাক্রমে ডাক্তার সতীশ রাও, মণিকৃষ্ণ, হরিশ রেড্ডি, প্রদীপ, সদানন্দ, মেহরুন্নিসা এবং হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান বি শ্রীনিবাসের তত্ত্বাবধানে এই বিরল হার্ট সার্জারি সফল হয়। চিকিৎসকরা
জানিয়েছেন, সরকার মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।