হেলদোলহীন নিগম

 হেলদোলহীন নিগম
এই খবর শেয়ার করুন (Share this news)

রাজ্যজুড়ে বেহাল হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ পরিষেবা।পত্রিকা খুললেই শুধু বেহাল বিদ্যুৎ পরিষেবার খবর। কোথাও ৭২ ঘন্টা ধরে বিদ্যুৎ নেই তো কোথাও ২দিন ধরে অন্ধকার।বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত।শুধু আগরতলা শহরকে সচল রাখা হচ্ছে কোনওরকমে জোড়াতালি দিয়ে।এই অবস্থায় রাজ্যের বিদ্যুতের অবস্থা নিয়ে ভোক্তাসাধারণ বেজায় অসন্তুষ্ট, যারপরনাই ক্ষুব্ধ।বর্তমান সময়ে বিদ্যুৎ মানুষের একেবারে প্রাত্যহিক জীবনের সাথে জড়িত। তীব্র গরমে এবার যেমন রাজ্যে নজিরবিহীন বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল সাধারণ নাগরিকের,তেমনি তীব্র গরমের পর সাময়িক স্বস্তি হিসাবে বৃষ্টি, ঝড়ের সাথে রাজ্যজুড়ে বেহাল, হতশ্রী বিদ্যুৎ পরিষেবার চেহারও ফুটে উঠে।এ চিত্রটা প্রতি বছরের। এর থেকে যেন কোনও মতেই পরিত্রাণ মিলছে না রাজ্যবাসীর।বিদ্যুৎ নিগমের কর্পোরেটবাবুরা শুধু আগরতলা শহরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক রাখতেই যেন যারপরনাই ব্যস্ত।মফস্সল শহর কিংবা আরেকটু ভিতরে গেলে মফসলের আনাচেকানাচে গ্রামগুলির বিদ্যুতের বেহাল দশা তাদের চোখে ধরা পড়ে না।তাই তো রাজ্যজুড়ে বিদ্যুতের হতশ্রী চেহারার সংবাদ-ই গত কয়দিন ধরে পত্রিকায় ফলাও করে লেখা হচ্ছে।এর জন্য দায়ী মান্ধাতা আমলের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো। সম্প্রতি বিদ্যুৎ পরিষেবার মাঝেমধ্যে বিচ্যুতির জন্য ভোক্তাদের এসি ব্যবহারকে দায়ী করা হয়েছে একটা মহল থেকে। এটা একটা কারণ হতে পারে কিন্তু পুরোটাই এর জন্য দায়ী এরকম যুক্তি থাকতে পারে না। এসি ব্যবহার করা বেআইনি নয়, কিন্তু এক্ষেত্রে অনুমতি নিয়ে ব্যবহার করাই শ্রেয়। শুধু এসি ব্যবহারের ফলেই ট্রান্সফর্মার বিকল হচ্ছে এমনটা নয়। শুধু এসি ব্যবহারই নয়, উন্নত জীবনধারায় আমরা এখন অভ্যস্ত। ফলে মানুষ এসি ছাড়াও ইলেকট্রিক্যাল আরও সামগ্রী প্রাত্যহিক নানা কারণে ব্যবহার করছে। ফলে রাজ্যে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে।একটা সময় ছিল রাজ্যে লোডশেডিং কথাটা প্রায়ই শোনা যেত।পালা করে এলাকাভিত্তিক ২/৩ ঘন্টা করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হতো। কিন্তু এখন বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কথা, বেহাল বিদ্যুৎ অবস্থার কথা প্রায়শই সংবাদ শিরোনামে উঠে আসে।সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতে বেহাল হয়ে পড়ছে বিদ্যুৎ পরিষেবা।এছাড়া আরেকটি সমস্যা হচ্ছে বিদ্যুৎ নিগমে এখন কর্মীর অভাব।গত ২৪ ঘন্টায় কৈলাসহর, কাঞ্চনপুর, অমরপুর, গণ্ডাছড়া, খোয়াই, তেলিয়ামুড়া, কল্যাণপুরসহ আরও রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত।প্রতি বছরই ঝড় বৃষ্টি হয়। এটা প্রকৃতির অংশ, কিন্তু এর জন্য নিগমের আগাম কোনও প্রস্তুতি নেই। ফলে যা হওয়ার তাই হয়। স্বল্পবর্ষণ, ঝড় হলেই কোনও এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ছে। এক্ষেত্রে রাজধানী আগরতলায়ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হচ্ছে। মফসলের অবস্থা আরও করুণ।একবার বিদ্যুৎ গেলে কখন যে বিদ্যুৎ আসবে তার ইয়ত্তা নেই।কোথাও ৭২ ঘন্টা তো কোথাও ২ দিন বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুৎ নিগমে যোগাযোগ করলে কথা বলার লোক নেই, কর্মী নেই কাজ করার। ফলে মফস্সলের ভোক্তারা নিদারুণ সমস্যার মুখোমুখি। অথচ এমনটা হবার কথা ছিল না। বিদ্যুতের কোনও ঘাটতি নেই রাজ্যে। বিদ্যুৎ নিগমের এদিকে যেন ধ্যানই নেই। নিগম ব্যস্ত বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধি নিয়ে। পরিষেবা থাকুক আর নাই থাকুক, মাশুল বৃদ্ধি করতে হবে। তাই নিগম বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কমিশনের কাছে বিদ্যুতের মাশুল বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। ভবিষ্যতে হয়তো বিদ্যুৎ মাশুল বাড়বেও। কিন্তু ভোক্তারা সঠিক বিদ্যুৎ পরিষেবা পাচ্ছে কিনা, বিশেষ করে মফসল শহরে, গ্রামের মানুষজন বিদ্যুৎ পরিষেবা পাচ্ছেন কিনা এ ব্যাপারে নিগমের কর্তারা অনেকটাই উদাসীন। কর্পোরেটবাবুরা এখন ব্যবসায়ী। বিদ্যুৎ পরিষেবা দিন আর না দিন মাশুল গুনতে হবে ভোক্তাদের। শুধু রাজধানীকে বাহারি আলোকে সাজিয়ে তুললাম আর মফস্সল ডুবে থাক অন্ধকারে, কোনও খবর রাখলাম না— এই ভাবনা এখন পেয়ে বসেছে। বিদ্যুৎ নিগমের কর্তাবাবুদের।একদিকে পরিকাঠামোর উন্নয়ন, ট্রান্সফর্মারগুলির ক্ষমতা বৃদ্ধি, গুণমানসম্পন্ন তার, যন্ত্রাংশ সব ব্যবহার করা জরুরি, বিদ্যুৎ পরিষেবা অক্ষুণ্ণ রাখতে। সর্বোপরি কর্মী সংখ্যা বাড়ানো, ইঞ্জিনীয়ার নিয়োগ করতে হবে আরও ব্যাপক সংখ্যায়।বর্তমানে প্রযুক্তির সঙ্গে পাল্লা দিতে গেলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে সমানতালে দৌড়াতে হবে। কেননা, বিদ্যুৎ ছাড়া এখন প্রযুক্তির ব্যবহার অচল। বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে অক্ষুণ্ণ রাখা তাই জরুরি। বিদ্যুৎ নিগমকে রাজ্যে বিদ্যুৎ পরিষেবা বিশেষ করে এই বর্ষার সময় বিদ্যুতের সঠিক পরিষেবা প্রদান করতে বিশেষ ভূমিকা নেওয়া আশু প্রয়োজন।

Dainik Digital

Dainik Digital

Leave a Reply

Your email address will not be published.