Categories: বিদেশ

৩৮ দিন সমুদ্রে বাঁচেন কচ্ছপের রক্ত খেয়ে

এই খবর শেয়ার করুন (Share this news)

সমুদ্র পথে যাত্রায় ওত পেতে থাকে নানা বিপদ।৫০বছরেরও আগে সমুদ্রে পাড়ি দিয়ে এমনই বিপদের মুখে পড়েছিল একটি পরিবার। ঘটনাটি ১৯৭১ সালের। সেই বছর প্রশান্ত মহাসাগরে নৌকায় চড়ে সাগর ভ্রমণে বের হয়েছিল রবার্টসন পরিবার। যাত্রা শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডের ফালমাউথ থেকে। তাদের এই সমুদ্র সফরের পরিণতি যে ভঙ্কর হবে তা বোধ হয় কেউ ভাবেননি। মাঝ সমুদ্রে একটি তিমির আক্রমণে রবার্টসন পরিবারের নৌকা ডুবে যায়। কিন্তু তারা বেঁচে গিয়েছিলেন। টানা ৩৮ দিন ধরে একটি ছোট ডিঙিতে চড়ে সমুদ্রে ভেসে দিন কাটিয়েছিলেন তারা।যে নৌকায় তারা যাত্রা শুরু করেছিলেন তার নাম লুসেট। নৌকায় ছয়জন ছিলেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনই রবার্টসন পরিবারের সদস্য। সমুদ্রের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করছিলেন তারা। হঠাৎই একটি তিমির আক্রমণের মুখে পড়ে তাদের নৌকা। যার ফলে ডুবে যায় সেটি। তারপর একটি ছোট ডিঙিতে চড়ে ভেসে ছিলেন তারা। সেই সময় রবার্টসন পরিবারের সদস্য ডগলাসের বয়স ছিল ১৮। পরে ডগলাসই সেই অভিজ্ঞতার কথা একটি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। তার কথায়, আমরা কৃষক ছিলাম। সমুদ্রে যাত্রার অভিজ্ঞতা আমাদের কারোরই ছিল না। মাঝ সমুদ্র। চারপাশে কোথাও কেউ নেই। সাহায্যের জন্য তাই সেই সময় কাউকেই পায়নি রবার্টসন পরিবার। ফলে ওই ডুবন্ত নৌকায় কোনওরকমে ভেসে দিন কাটিয়েছেন তারা। ডগলাস জানান, ওই অবস্থায় কী খাবো নিয়ে খুব মাথাব্যথা ছিল। তবে সবাই মিলে ঠিক করেছিলেন যে, মৃত্যুর হার মানা চলবে না। যে করেই হোক এই লড়াইয়ে টিকে থাকতে হবে। সেই অবস্থায় বেঁচে থাকার জন্য সমুদ্রের প্রাণীদের উপরই ভরসা করতে হয়েছিল তাদের। সমুদ্রে মাছ, কচ্ছপ যা কিছু পেতেন, তা দিয়েই পেটমচালাতেন। সবই কাঁচা অবস্থাতে খেতেন তারা। তবে নিজেরা প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, পেটের টানে একে অপরকে খুন করবেন না। ডগলাস জানান, সেই সময় বেঁচে থাকার জন্য কচ্ছপের রক্ত পান করতেন তারা। এসব খেয়েই টানা ৩৮ দিন ধরে সমুদ্রে নিজের প্রাণশক্তি ধরে রেখেছিলেন। এই ৩৮ দিনে অনেক ঝড়ঝাপটা সামলাতে হয়েছে রবার্টসন পরিবারকে।ঝড়বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে যেমন টিকে থাকতে হয়েছে, তেমনই দীর্ঘসময় কিছু না খেয়েই তাদের দিন কাটাতে হয়েছে। মৃত্যুর সঙ্গে প্রতিটি মুহূর্ত লড়াই করতে করতে এভাবে ৩৮দিন সমুদ্রে দিন কাটান রবার্টসন পরিবার।৩৮দিন পর রবার্টসন পরিবারকে মাঝ সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে জাপানের একটি ট্রলার। তারপর সেই ট্রলারে করে রবার্টসন পরিবারের সদস্যদের পানামা ক্যানালে নেওয়া হয়। ডগলাসদের এই বেঁচে থাকার লড়াই অনেকেরই কাছেই অনুপ্রেরণা।

Dainik Digital

Share
Published by
Dainik Digital

Recent Posts

দুদিনের সফরে থাইল্যান্ডে প্রধানমন্ত্রী,সাক্ষাৎ হবে ইউনুসের সাথেও!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-ষষ্ঠ 'বিমসটেক' শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান করতে বৃহস্পতিবার দু'দিনের সফরে থাইল্যান্ডে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র…

11 hours ago

৯৩,৪২৫ মহিলাকে লাখপতি দিদি করার পরিকল্পনা!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত ৯৪ হাজার ৭২৩ জন মহিলা লাখপতি দিদি হয়েছেন।…

11 hours ago

এ রোগের ওষুধ নেই, সামনে দুর্দিন গরিবের!!

অনলাইন প্রতিনিধি:-দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলোর লাভের বড় অংশই এখন খেয়ে নিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। তাই ভোেট শেষ…

12 hours ago

জিবি হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থা ঘিরে রোগীর অভিযোগ বাড়ছেই!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-রাজ্যের প্রধান হাসপাতাল জিবিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসব সব বিভাগে চব্বিশ ঘন্টা না থাকায় রোগীর…

12 hours ago

অনুপ্রবেশ রুখতে জয়েন্ট পেট্রোলিং চলছে: মুখ্যমন্ত্রী!!

অনলাইন প্রতিনিধি:-রাজ্যে অনুপ্রদেশ রুখতে পুলিশ,বিএসএফ ও অন্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলি যৌথভাবে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন…

12 hours ago

ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ, তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তে সীলমোহর দিল কেন্দ্রীয় সরকার!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগজিকিউটিভকাউন্সিলের সিদ্ধান্তকে সীলমোহর দিল মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক।কেন্দ্রীয় সরকারের এই নির্দেশ…

13 hours ago