৫৪৫ টাকায় অফিসের শৌচালয় ভাড়া তরুণীর!!

অনলাইন প্রতিনিধি :- পড়াশোনা করে অল্প বয়সে চাকরি পেয়েছেন বটে, কিন্তু নতুন চাকরির টাকায় চড়া ঘরভাড়া দিয়ে থাকা তার পক্ষে সম্ভব নয়। পারিশ্রমিক যা পান তাতে বাড়িভাড়া দেওয়ার সামর্থ্য নেই তার। অগত্যা কর্মস্থলে বসের স্ত্রীকে ন্যূনতম খরচ (ভারতীয় টাকায় মাসে ৫৪৫) দিয়ে অফিসের শৌচালয়ে থাকতে শুরু করেছেন তরুণী।
চিনা সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ১৮ বছর বয়সি এই তরুণীর নাম ইয়াং। চিনের হুনান প্রদেশের একটি আসবাবের দোকানে চাকরি করেন তিনি। প্রতি মাসে ২৭০০ ইউয়ান (ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩১ হাজার ৭৭৬ পর টাকা) বেতন পান তিনি। বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকবেন বলে খোঁজাখুঁজি করতে শুরু করেন ইয়াং।
কিন্তু কম খরচে কোনও ভাড়াবাড়ির সন্ধান পাচ্ছিলেন না তিনি। খোঁজখবর নিয়ে ইয়াং দেখেন, বাড়িভাড়া করতে হলে প্রতি মাসে কমপক্ষে ৮০০ ইউয়ান (ভারতীয় মুদ্রায় ৯ হাজার ৪১৫ টাকা) তাকে খরচ করতেই হবে। তাই বিকল্প হিসাবে অভিনব পন্থা অবলম্বন করেছেন তিনি। ইয়াং যে দোকানে কাজ করেন, সেখানকার শৌচালয়ে থাকতে শুরু করেছেন। এ ব্যাপারে ইয়াং জানান, প্রতি মাসে ভাড়া বাবদ ১৬৫ ইউয়ান (ভারতীয় মুদ্রা অনুযায়ী ১৯৪৩ টাকা) দিতে রাজি ছিলেন তিনি। কিন্তু বসের সহৃদয় স্ত্রী ইয়াংয়ের কাছে অত ভাড়া নিতে চাননি। ইয়াংকে তিনি জানান, শৌচালয়ে থাকার খরচ বাবদ প্রতি মাসে তাকে ৫ পাউন্ড (৫৪৫ টাকা) দিলেই হবে। এতে কার্যত মেঘ না চাইতেই যেন জল পেয়ে যান ইয়াং। মালপত্র নিয়ে চলে আসেন অফিসের বাথরুমে। মোটা কাপড়ের পর্দা দিয়ে নিজের থাকার জায়গাটুকু ঢেকে নেন। সেখানেই স্নান, খাওয়াদাওয়া থেকে রাতে ঘুমোন তিনি। দোকানের ভিতর ঘুমোনোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল ইয়াংকে। কিন্তু অত বড় শোরুমের ভিতর একা থাকতে ভয় করবে বলে শৌচালয়ের ভিতরেই খাট পেতে নিয়েছেন তরুণী। দোকান চালু থাকার সময় অন্য কর্মী এবং ক্রেতাদের শৌচালয় ব্যবহার করতে যেন অসুবিধা না হয় সে কারণে রাত পোহালেই নিজের মালপত্র সব এক জায়গায় গুছিয়ে রেখে দেন ইয়াং। তিনি জানান, শৌচাগারের যে অংশটুকু তিনি ভাড়া নিয়েছেন আয়তনে সেটি ৬ বর্গমিটার। তিনি আরও জানান, বাথরুমের এক প্রান্তে তিনি একটি ছোট্ট রান্নার পাত্র, একটি পর্দা আর জামাকাপড়
ঝোলানোর একটি কাঠের তাক রেখেছেন। তিনি প্রতিদিন শৌচাগারটি পরিষ্কার করেন এবং মাঝেমধ্যে রাতে নুডলস রান্না করে খান।