রাজ্যজুড়ে ধূমায়িত হচ্ছে ক্ষোভ!

 রাজ্যজুড়ে ধূমায়িত হচ্ছে ক্ষোভ!
এই খবর শেয়ার করুন (Share this news)

ভোট গণনার পর সাধ চারদিন অতিক্রান্ত হলেও এখনও হিংসাত্মক কার্যকলাপ বন্ধের নামগন্ধ নেই। সবথেকে উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে, নির্বাচনের ডামাডোলের সুযোগ নিয়ে অনেকে ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক পূর্বশত্রুতার জের মিটিয়ে নিচ্ছে। চারদিন পরও অশান্তি থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এতে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সেসাথে রাজনৈতিক দলের আশ্রিত দুষ্কৃতীদের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। যতই আবেদন-নিবেদন করা হোক না কেন, সন্ত্রাসীদের কার্যকলাপ বন্ধ নেই। শুধু একে অপরের উপর দায় চাপানোর খেলা চলছে। শাসক দায় চাপাচ্ছে বিরোধীদের উপর, উল্টো দিকে বিরোধীরা দায় চাপাচ্ছে শাসকের উপর। কোথাও বিরোধীরা আক্রান্ত হচ্ছে। আবার কোথাও শাসকদলের কর্মী সমর্থকরা আক্রান্ত হচ্ছেন। অপরদিকে অসহায় অবস্থা আরক্ষা প্রশাসনের। রাজনৈতিক দলের নেতা- নেত্রীদের একতরফা বয়ানবাজি
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এতে গোটা রাজ্যজুড়েই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।
বক্সনগর বিধানসভা কেন্দ্রের কমলনগর গ্রামে সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে দুটি পিস্তল উদ্ধার, ওষুধের দোকানে অগ্নিসংযোগ, একটি পাড়া ঘেরাও করে একযোগে আক্রমণের ঘটনায় সোনামুড়া থানার কমলনগর এলাকা রবিবার রাত নয়টা থেকে উত্তাল হয়ে ওঠে। পুলিশ পিস্তলসহ চারজনকে আটক করেছে। কিন্তু তাদের ছেড়ে দেবার জন্য প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে দলীয় তরফে। পুলিশ পিস্তলসহ ধৃত সুকান্ত দেবনাথ ও অপু দাসকে
আজ আদালতে সোপর্দ করেছে। সোনামুড়া থানার ওসি মানিক দেবনাথ জানান, ধৃতদের আদালতে সোপর্দ করে পাঁচদিনের পুলিশ রিমাণ্ড চাওয়া হয়েছে। সংবাদ লেখা পর্যন্ত আদালতের নির্দেশ জানা যায়নি। নির্বাচনের আগে কিংবা পরে কোনও ওষুধের দোকানে হামলা করা, দোকান বন্ধ করার নির্দেশ এ যাবৎ কালের ইতিহাসে নজিরবিহীন। কমলনগর হাসপাতালের সামনে থাকা এই ওষুধের দোকান রাত্রিকালীন পরিষেবাও দিয়ে থাকতো রোগীদের। এই দোকান পুড়িয়ে দেবার ফলে হাসপাতালের রোগীরাও সমস্যার সম্মুখীন। এছাড়া নির্বাচনি ফলাফল প্রকাশের পর নানা স্থানে হামলা হুজ্জতি চললেও কোনও এলাকায় একসঙ্গে শতাধিক লোক একসঙ্গে কোনও এলাকায় হামলা চালানো, বোমা নিক্ষেপ, পিস্তল দেখিয়ে গুলী করে দেবার হুমকির ঘটনায় বক্সনগর বিধানসভা কেন্দ্রে কার্যত ত্রাসের সঞ্চার হয়েছে।রবিবার রাতে উত্তর জেলার ৫৭ নং যুবরাজনগর বিধানসভার পশ্চিম দেওয়ানপাশা গ্রাম পঞ্চায়েতের ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা স্থানীয় পূর্ণিমা দেব (৬৭)- র বাড়িতে ঢুকে কিছু দুষ্কৃতী অতর্কিতে হামলা চালায়। বৃদ্ধার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। খবর দেওয়া হয় দমকল বিভাগে । ছুটে এসে দমকলের কর্মীরা রক্তাক্ত অবস্থায় বৃদ্ধাকে ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। আহত পূর্ণিমা দেব জানান, স্বামী মারা যাবার পর থেকে বিগত প্রায় ৫ মাস ধরে তারা শাসকদলের কোনও কর্মসূচিতে সরাসরি জড়িত না থাকতে পারলেও তার পরিবার শাসকদল বিজেপি সমর্থিত। কিন্তু রবিবার রাতে স্থানীয় কিছু যুবক কেন তার উপর অতর্কিত এভাবে আক্রমণ চালালো তা কিছুই আন্দাজ করতে পারছেন না। ইতিমধ্যে ধর্মনগর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমেছে। বর্তমানে ঘটনা ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। চণ্ডীপুর বিধানসভা কেন্দ্রেও আসাম রাইফেলসের এক জওয়ানের বাড়িতে দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়। বাড়িঘর ভেঙে তছনছ করে করে দেওয়া হয়েছে। বিশালগড়ে এক বিজেপি বুথ সভাপতির বাড়িতে হামলা চালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। বিশালগড় কড়ইমুড়া এলাকার বাসিন্দা বিজেপি কর্মী দিলীপ বণিকের বাড়িতে রবিবার গভীর রাতে দুষ্কৃতীরা বোমা নিক্ষেপ করে। সোনামুড়ার কালাপানিয়াতে এক অসহায় মহিলার বসতঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। ধর্মনগরের পদ্মপুরে অমিতাভ বিশ্বাসের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়েছে। শুধু তাই নয়, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। চণ্ডীপুর বিধানসভার অন্তর্গত বটের বাজারে রাজনৈতিক হিংসার শিকার হয়েছে দুটি দোকান। দুটি দোকানে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এমন আরও একাধিক ঘটনা ঘটেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এসব অরাজকতা কতদিন ধরে চলবে? মানুষ চায় শান্তি। কিন্তু এই রাজ্যে ভোট মানেই সন্ত্রাস আর হিংসার উৎসব। এসব কঠোর হাতে দমন না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদ ডেকে আনবে।

Dainik Digital

Dainik Digital

Leave a Reply

Your email address will not be published.