সিলেবাস ছাড়াই টিইএস পরীক্ষা!

 সিলেবাস ছাড়াই টিইএস পরীক্ষা!
এই খবর শেয়ার করুন (Share this news)

অনলাইন প্রতিনিধি :-রাজ্যে এই প্রথম সিলেবাস ছাড়াই হলো ত্রিপুরা ইঞ্জিনীয়ারিং সার্ভিস পরীক্ষা।ত্রিপুরা পাবলিক সার্ভিস কমিশন কেন টিইএস- ২৩ পরীক্ষা সিলেবাস ছাড়াই তড়িঘড়ি গত আট অক্টোবর নিয়ে নিলো?এ নিয়ে রাজ্যব্যাপী নানা প্রশ্ন উঠেছে।আর রাজ্যের হাজারও ইঞ্জিনীয়ার বেকারের প্রশ্নবাণে এখন জর্জরিত হচ্ছে রাজ্য সরকার। শুধু তাই নয়, বেকার ইঞ্জিনীয়ারদের সাথে টিপিএসসি চেয়ারম্যান পর্যন্ত সাক্ষাৎকার করছে না।

ইউপিএসসি আয়োজিত ইঞ্জিনীয়ারিং সার্ভিস পরীক্ষা এবং গেট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হুবহু টিইএস – ২৩ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ছাপিয়ে দিয়েছিল ত্রিপুরা পাবলিক সার্ভিস কমিশন। যার ফলে এখন বিপাকে পড়ে গিয়েছে রাজ্য সরকার। ফলে এক সপ্তাহ অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত টিইএস – ২৩ প্রিলিমিনারি পরীক্ষার টেন্টেটিভ ‘আনসার কি’ প্রকাশিত হয়নি।ফাইনাল ‘আনসার -কি’ তো দিবাস্বপ্ন। রাজ্য মহাকরণ সূত্রে খবর, টিপিএসসি আয়োজিত টিইএস – ২৩ পরীক্ষায় ডিপ্লোমা এবং ডিগ্রি ইঞ্জিনীয়ার চারশোটি পদের জন্য প্রায় চার হাজার দুশোজন আবেদন করেছিলেন।এর মধ্যে পরীক্ষায় বসেছিলেন প্রায় তিন হাজার ছয়শোজন রাজ্যের বেকার যুবকযুবতী। কিন্তু যে ধরনের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে তাতে কতজন এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে তা বলা মুশকিল।তাই পিআরটিসি বাধ্যতামূলক নিয়ম কার্যকর করেও কতটা পাবে সুফল রাজ্যের বেকাররা তা প্রশ্নচিহ্নের মুখে।টিপিএসসি সূত্রে খবর, প্রিলিমিনারি পরীক্ষার নিয়ম অনুযায়ী প্রায় ৮৮৮ জন শুধুমাত্র সাধারণ শ্রেণীর বেকার যুবক যুবতীদের পাস করাতে হবে।এর সাথে যুক্ত হবে তপশিলি জাতি এবং তপশিলি উপজাতি বেকার যুবক যুবতী প্রায় ৪৭৮ জন। ফলে সহজেই অনুমেয় রাজ্যব্যাপী প্রচার করে পরীক্ষা নিলেও চারশোটি পদে যাতে রাজ্যের বেকার ইঞ্জিনীয়ারদের চাকরি না হয় এ কারণেই সিলেবাস ছাড়া টিইএস -২৩ পরীক্ষা নিয়েছে রাজ্য সরকার, টিপিএসসি এমনই অভিযোগ জানালো রাজ্যের ইঞ্জিনীয়ার বেকার যুবক যুবতীরা।আরও অভিযোগ, পরীক্ষার দিন প্রশ্নপত্র বেকারদের মধ্যে বিতরণের সময় কোনও সরকারী সিল এবং স্বাক্ষর পর্যন্ত ছিল না। এ নিয়ে রাজ্যব্যাপী পরীক্ষা কেন্দ্রে বেকারদের প্রশ্নবাণে বিদ্ধ হয়েছেন শিক্ষক শিক্ষিকারা। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব রাজ্য সরকারের পূর্ত দপ্তর। কারণ পূর্ত দপ্তরের চারশোটি ইঞ্জিনীয়ারের শূন্যপদের জন্যই টিইএস – ২৩ পরীক্ষা হয়েছে। আর এই পরীক্ষায় নিয়ম লঙ্ঘন করে ষাট নম্বরের বেশি অংক ছিল।
ত্রিপুরা পাবলিক সার্ভিস কমিশন সূত্রে খবর, টিইএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা একশো নম্বরে হয়। এর মধ্যে কুড়ি নম্বর জিকে এবং কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স, ইংরেজি বিষয়ে হয়। আর বাকি আশি নম্বর ইঞ্জিনীয়ারিং-টেকনিক্যাল বিষয়ে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, পরীক্ষার নিয়ম হলো এ বিষয়ে আশি নম্বরের মধ্যে মাত্র পনেরো নম্বরের প্রশ্ন অংক বিষয় থেকে থাকবে। কারণ এই পরীক্ষার সময় দুই ঘন্টা। ইঞ্জিনীয়ারকে টেকনিক্যাল বিষয়ে একটি অংক সম্পন্ন করতে বেকারদের প্রায় পাঁচ মিনিট সময় লাগে। তাই সময় বাঁচাতে বেকারের স্বার্থে অংক বিষয়ে সর্বোচ্চ পনেরো নম্বর কিংবা অনেক ক্ষেত্রে মাত্র পাঁচ নম্বরও থাকতে পারে। কারণ টিইএস পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যায় না। এমনকী অনেক ক্ষেত্রে ক্যালকুলেটর দিয়ে পর্যন্ত ইঞ্জিনীয়ারিং সার্ভিসের অংক পাঁচ মিনিটে সম্পন্ন অসম্ভব। তাই অংকে নম্বর কমে থাকে। যাতে বেকাররা দুই ঘন্টার মধ্যে একশো নম্বরের উত্তর লিখতে পারে। এটাই টিইএস পরীক্ষার নিয়ম।তবে এই প্রথম টিইএস পরীক্ষার নিয়মকে কলাপাতায় পরিণত করা হয়েছে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ডিগ্রি ও ডিপ্লোমা বিভাগে আশি নম্বরের ইঞ্জিনীয়ার- টেকনিক্যাল বিষয়ে প্রায় ষাট নম্বরের ছিল অংক। মাত্র কুড়ি নম্বর ইঞ্জিনীয়ার- টেকনিক্যাল বিষয়ে প্রশ্ন ছিল। যে প্রশ্ন হয়েছে তাতে বেকার ইঞ্জিনীয়ারের প্রয়োজন ছিল প্রচুর সময়। যা বেকারদের কাছে ছিল না। ফলে টিইএস – ২৩ প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় রাজ্যের ক’জন বেকার উত্তীর্ণ হবেন তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ দেখা দিয়েছে।অভিযোগ, টিইএস – ২৩ পরীক্ষার প্রায় ত্রিশ শতাংশ প্রশ্নপত্র পর্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ ছিল। টিইএস পরীক্ষার প্রশ্নপত্র যারা ২০২৩ সালে তৈরি করেছেন, তাদের কোনও পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। যার খেসারত দিলেন রাজ্যের কয়েক হাজার বেকার ইঞ্জিনীয়ার। রাজ্যের বেকারদের আরও অভিযোগ রাজ্যে সাত বছর পর অনুষ্ঠিত ত্রিপুরা ইঞ্জিনীয়ারিং সার্ভিস পরীক্ষার মাধ্যমে রাজ্যের বেকারদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে।

Dainik Digital

Dainik Digital

Leave a Reply

Your email address will not be published.