মোদির সঙ্ঘ নৈকট্য!”

 মোদির সঙ্ঘ নৈকট্য!”
এই খবর শেয়ার করুন (Share this news)

ফের মোদি-সঙ্ঘ কাছাকাছি।বলা ভালো মোদি জমানায় প্রথমবারের মতো সঙ্ঘের সদর দপ্তরে পদার্পণ হলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির।২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হবার পর কোনদিন সঙ্ঘের সদর দপ্তর নাগপুরে যাননি মোদি।শুধু তাই নয়, গত লোকসভা ভোটের সময় প্রচারে গোটা দেশ চষে বেড়ালেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একবারের জন্যও নাগপুরে পা বাড়াননি।২০১৪ সালে কেন্দ্রের গদিতে আসীন হবার পর থেকেই মূলত কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদির একাধিপত্য কায়েম শুরু হয়।একটা সময় মোদির প্রবল দাপট শুরু হয় গোটা দেশে।একের পর এক রাজ্য মোদির ক্যারিশমায় বিজেপি দখল করতে থাকে। এক কথায় মোদি হয়ে ওঠেন বিজেপির সর্বময় কর্তা। অর্থাৎ লার্জার দ্যান দ্য লাইফ। এরপর থেকেই মোদির সাথে সঙ্ঘের দূরত্ব ক্রমশ বাড়তে থাকে। কেন্দ্রের গদিতে মোদি পাশে পেয়ে যান শাহকে। এই দুই শাসক শিবিরের জুটির প্রবল পরাক্রমে বিরোধী দলগুলি একের পর এক নির্বাচনে ধরাশায়ী হতে থাকে। মোদি-শাহ ভাবতে থাকতে যে সঙ্ঘের আর কোন দরকার নেই। অথচ এই আরএসএসের হাত ধরেই দিল্লীর রাজনীতিতে নরেন্দ্র মোদির আগমন। সেই আরএসএসকে কিনা অবজ্ঞা! এর জেরে ২০১৪ সালের পর ২০১৯-এর নির্বাচনে মোদি-শাহ উতরে গেলেও মোদি-শাহ প্রবল ধাক্কাটি খায় ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে।সেবার বিজেপি একক বৃহত্তম দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। বিজেপি একা কেন্দ্রের ক্ষমতায় আসতে ব্যর্থ হয়। একই সাথে উত্তরপ্রদেশেও বিজেপির ফলাফল খারাপ হয়।রাম মন্দিরের আঁতুড়ঘর অযোধ্যায় বিজেপিকে হারতে হয়েছে।খোদ বারাণসী কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদির ভোট কমেছে তিন লাখের বেশি। নিন্দুকদের বক্তব্য ছিল বর্তমানে হিন্দুত্বের পোস্টার বয় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সাথে অমিত শাহের শীতল সম্পর্কের কারণে উত্তরপ্রদেশে গত লোকসভা নির্বাচনের সময় বিজেপি এত ভালো ফলাফল করতে পারেনি।এরপরই বিজেপি ধীরে ধীরে অনুভব করতে থাকে যে আসলে আরএসএস বিজেপির উপর ক্ষুণ্ণ। আরএসএস একটু সরে যেতেই বিজেপির ফলাফলে ভাটার টান লক্ষ্য করা যাচ্ছে।এরপর থেকেই আলোচনা চলছে যে বিজেপি সঙ্ঘ কাছে আসা জরুরি।গত বছর লোকসভা ভোটের প্রাক্কালে রামমন্দির উদ্বোধনের সময় একবার সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবতকে নরেন্দ্র মোদির পাশে দেখা গেছিল।এরপর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি আশানুরূপ ফল করতে না পারার পর নরেন্দ্র মোদিকে পরোক্ষে সমালোচনায় বিদ্ধ করেছিলেন আরএসএস প্রধান ভাগবত। এরপর থেকেই বিজেপি বুঝতে পারে যে, আসলে সঙ্ঘ ছাড়া বিজেপির উদ্ধার নেই।এরপর হরিয়ানা, মহারাষ্ট্রের নির্বাচনে হতে না হতে ফলও পেয়েছে বিজেপি। দুই রাজ্যেই প্রায় হাতছাড়া হতে যাচ্ছিল বিজেপির। কিন্তু দুই রাজ্যেই ফের সঙ্ঘ সাংগঠনিকভাবে নির্বাচনে কাজ করায় আশাতীত ফল করছে বিজেপি। বিজেপির অনুভূতিতে ফের সঙ্ঘ। এবার প্রায় এগারো বছর পর সঙ্ঘের সদর দপ্তরে সম্প্রতি গিয়েছিলেন মোদি। একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন মোদি গত রবিবার নাগপুরে। শুধু তাই নয়, আরএসএসকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন মোদি। আরএসএসকে বটবৃক্ষের সাথেও তুলনা টানেন মোদি। আসলে দীর্ঘদিন বাদে মোদি বুঝতে পারছেন যে, আরএসএস ছাড়া বিজেপির গতি নেই। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অবসর ইস্যুকে উস্কে দিয়েছেন শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত। সব বল এখন সরসঙ্ঘ চালক মোহন ভাগবতের কোর্টে। আরএসএস ফের বিজেপির নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠছে।এছাড়া বিজেপির আর রাস্তাও নেই।দেরিতে হলেও মোদি সেটা বুঝতে পেরেছেন।সেজন্যই হঠাৎ করে আরএসএসের সদর দপ্তরে গিয়ে সঙ্ঘের ঢালাও স্তুতি শোনা গেলো মোদির মুখে।আপাতত মোদি-সঙ্ঘ নৈকট্য কোথায় গিয়ে ঠেকে তাই দেখার এখন।

Dainik Digital

Dainik Digital

Leave a Reply

Your email address will not be published.