ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ, তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তে সীলমোহর দিল কেন্দ্রীয় সরকার!!

 ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ, তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তে সীলমোহর দিল কেন্দ্রীয় সরকার!!
এই খবর শেয়ার করুন (Share this news)

অনলাইন প্রতিনিধি :-ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগজিকিউটিভকাউন্সিলের সিদ্ধান্তকে সীলমোহর দিল মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক।কেন্দ্রীয় সরকারের এই নির্দেশ আসার পরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের রাতের ঘুম উবে গিয়েছে।কেননা, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী গ্রুপ ডি সহ একাংশ পদের নিয়োগ প্রক্রিয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গড়ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, এখন এই তদন্ত কমিটির নির্দেশ মোতাবেক রাজ্য আরক্ষা দপ্তরকে বিশেষ করে ক্রাইম ব্রাঞ্চকে সর্বক্ষেত্রে সাহায্য করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।যাতে অভিযোগগুলির নিষ্পত্তি হয় এবং যারা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার।
আরক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রুপ ডি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে থানায় মামলা হয়। এই মামলার ভিত্তিতে একজনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ।এরপর অভিযোগ মূলে গত ২২ মার্চ ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরপত্র সংরক্ষণ কক্ষ এবং উত্তরপত্রও সিল করে দিয়েছিল পুলিশ প্রশাসন। যদিও গ্রুপ ডি নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ হলেও গ্রুপ সি, গ্রুপ বি, গ্রুপ এ পদের উত্তরপত্রও সিল করেছিল পুলিশ। প্রায় ১৫ হাজার উত্তর সিল হয়ে যায়। ফলে প্রায় ৬৮টি পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে যায়। এর মধ্যেই গত ২৯ মার্চ ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ মামলা চলে যায় ক্রাইম ব্রাঞ্চে। এখন এই তদন্ত চলাকালীন সময়ে রাজ্যের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের তরফে যিনি মামলা করেছিলেন তার উপর থানা থেকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। যাতে তদন্ত মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। এমনকী এরজন্য সংশ্লিষ্ট থানায় পর্যন্ত গত দুদিন ধরে বিক্ষোভ প্রদর্শন হচ্ছে। তাদের একটাই দাবি, উত্তরপত্র মূল্যায়ন কক্ষের তালা খুলে দিতে হবে।
আরক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর অথচ ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চাইছে যাতে পুলিশ প্রশাসন তদন্ত চালিয়ে যায়। যাতে প্রকৃত ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী এবং রাজ্যের বেকার চাকরি প্রার্থীদের সামনে প্রমাণিত হয়।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, এর মধ্যেই আবার নয়াদিল্লীতে নয়া কোর্স, নিয়োগ প্রক্রিয়া, পেনশন সহ নানা ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হবে। এই বৈঠকে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য, প্রাক্তন রেজিস্ট্রার সহ প্রাক্তন ১২ আধিকারিক এবং অধ্যাপকদের পেনশন বাবদ প্রত্যেক মাসের টাকা কমিয়ে দেওয়া হবে। অভিযোগ, তারা প্রত্যেকেই প্রতিমাসে পেনশন বাবদ অতিরিক্ত অর্থরাশি ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নিয়ে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় সরকার থেকে। এখন এ সবকিছুই বন্ধ হবে। শুধু তাই নয়, তাদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেবে কেন্দ্রীয় সরকার।
শুধু তাই নয়,গ্রুপ এ,গ্রুপ বি, গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি পদের উত্তরপত্র সিল কেন হলো? এর খেসারত কেন সকল স্তরের বেকারদের প্রদান করতে হচ্ছে। এই জটিলতা নিরসনের জন্য আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সম্পূর্ণ বিষয় আইনিভাবে মোকাবিলার সিদ্ধান্তেও সীলমোহর দিয়েছে মন্ত্রক। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যাবতীয় বিষয় খতিয়ে দেখতে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি, এলাহাবাদ হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি, দিল্লী হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এবং প্রাক্তন মুখ্যসচিব ও প্রাক্তন পুলিশ মহানির্দেশকের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটিও গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রক। জানা গিয়েছে, এই খবর রাজ্যে আসতেই মামলা তুলে নিতে এবং তদন্ত বন্ধ করে দিয়ে মাঠে নেমে গিয়েছে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী।
এদিকে অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, লাইব্রেরি অ্যাটেনন্ডেন্ট, ল্যাবরেটারি অ্যাটেন্ডেন্ট, ল্যাব টেকনিশিয়ান, স্টেনোগ্রাফার, টেকনিক্যাল অ্যাসিস্টেন্ট, ম্যানেজার, জুনিয়র অ্যাসিস্টেন্ট করণিক এবং এমটিএস সহ অন্যান্য পদে আবেদনকারী যুবক-যুবতীদের অভিযোগ এখন যা হচ্ছে। এর জন্য সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল হতে পারে। অথচ গ্রুপ ডি পদের দুটি চাকরি নিয়ে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এর পরিণামে দেখা গেলো গ্রুপ এ, গ্রুপ বি, গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি মিলিয়ে প্রায় ৬৮টি শূন্যপদের প্রায় পনেরো হাজার উত্তরপত্র সিল করে দিলো পুলিশ প্রশাসন। আর এই পদের জন্য অধিকাংশ চাকরি প্রার্থী হলেন রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতী।
আরক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর, উত্তরপত্র সিল ঘিরে বিভিন্ন নথিপত্র পুলিশের কাছ থেকে গিয়েছে ক্রাইম ব্রাঞ্চে। উত্তরপত্র মূল্যায়ন কক্ষ তালাবন্দির জন্য পুলিশ প্রশাসনকে নথিপত্র প্রদান করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জানা গিয়েছে, এখন আদালতের নির্দেশ ছাড়া উত্তরপত্র মূল্যায়ন কক্ষ খোলা একপ্রকার অসম্ভব। উল্লেখ্য, ইউজিসির নির্দেশিকা অনুযায়ী এক মাসের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ না হলে সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল হবে, তা নিশ্চিত।এদিকে জানা গিয়েছে, যিনি নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে মামলা করেছিলেন।তিনি এ দিন তার মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বলে খবর।

Dainik Digital

Dainik Digital

Leave a Reply

Your email address will not be published.