ধর্মনগর, ডুকলি সিপিএম পার্টি অফিসে দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব, ভাঙচুর অভিযোগ শাসকের বিরুদ্ধে!!

 ধর্মনগর, ডুকলি সিপিএম পার্টি অফিসে দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব, ভাঙচুর অভিযোগ শাসকের বিরুদ্ধে!!
এই খবর শেয়ার করুন (Share this news)

অনলাইন প্রতিনিধি :- ধর্মনগর সিপিআই(এম) পার্টি অফিসে দুষ্কৃতী হামলা। ঘটনা শুক্রবার বেলা বারোটা নাগাদ। এই ঘটনার বিষয়ে সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য অমিতাভ দত্ত জানিয়েছেন, আবারও রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত ধ্বংসের কিনারায় সিপিআই(এম) উত্তর ত্রিপুরা জেলা এবং ধর্মনগর মহকুমা দপ্তর। বিজেপি জোট সরকারের আমলে এবার নিয়ে দশ বার আক্রমণ সংগঠিত করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে চল্লিশ পঞ্চাশ জন দুষ্কৃতী বাইক নিয়ে এসে আচমকা পার্টি অফিসে ঢুকে যায় এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তখন সিপিএম পার্টি অফিসে দলীয় কর্মসূচি রূপায়ণে একটি বৈঠক চলছিল। পার্টি নেতৃত্ব এবং কর্মীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা অফিসে ঢুকেই নেতা কর্মীদের উপর নৃশংস আক্রমণ সংগঠিত করে। অপরদিকে একদল নির্বিচারে অফিসের প্রতিটি ঘরে ডুকে ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে সমগ্র অফিসটিকে ধ্বংস স্তূপে পরিণত করে। দুর্বৃত্তরা পার্টি অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরা, মনিটর, কম্পিউটার, চেয়ার, টেবিল, প্রচারসজ্জা ইত্যাদি ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। দুর্বৃত্তরা সিপিআই(এম) নেতৃত্ব হর কুমার নাথকে মারধর করতে করতে টেনে হিঁচড়ে পার্টি অফিসের বাইরে নিয়ে গিয়ে রাস্তায় ফেলে অমানুষিক আক্রমণ সংগঠিত করে। অস্ত্রের আঘাতে তার মাথা ফেটে সারা শরীর রক্তে ভেসে যায়। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় মানুষ তাকে রাস্তা থেকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে যায়। একইভাবে ড্রেনে ফেলে অমানবিকভাবে আক্রমণ করা হয় সিআইটিইউ ধর্মনগর মহকুমা কমিটির সম্পাদক নিরঞ্জন দেবনাথকে। এছাড়াও দুর্বৃত্তদের আক্রমণে আক্রান্ত হয়েছে সিপিআই(এম) ধর্মনগর মহকুমা কমিটির সম্পাদক রতন রায়, সিপিআই(এম) ধর্মনগর পূর্ব অঞ্চল কমিটির সম্পাদক বিদ্যুৎ দে, ডিওয়াইএফআই নেতৃত্ব প্রণব রায় সহ আরও অনেকে। তিনি শাসক দলের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, আজ শাসক দল আশ্রিত দুর্বৃত্ত সিপিআই(এম) অফিস ভেঙে, নেতা কর্মীদের নৃশংসভাবে আক্রমণ করে, ফ্যাসিস্ট শক্তির নগ্ন চেহারা প্রকাশ করেছে। এভাবে বারবার পার্টি অফিস ভাঙচুর করে, পার্টি নেতা-কর্মীদের উপর নৃশংস আক্রমণ সংগঠিত করে বামপন্থী গণআন্দোলন স্তব্ধ করা যাবে না। তিনি এই নৃশংসতার তীব্র ধিক্কার জানিয়ে বলেন, রাজ্যে আইনের শাসন নিয়ে বড় বড় কথা বলা হলেও এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে রাজ্যে আইনের শাসন নেই, সর্বত্র চলছে অরাজকতা। এক কথায় জোর যার মল্লুক তার অবস্থা। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারাও উত্তর জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে প্রচার করছেন। বলা হচ্ছে, মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে উত্তর জেলাজুড়ে দিবারাত্র


টহলদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোথায় সেই নিরাপত্তা বাহিনী? এগুলি যে শুধুই ভাঁওতাবাজি তা এই ঘটনায় প্রকাশ পেয়েছে। এই বিষয়ে ধর্মনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সিতিকণ্ঠ বর্ধনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এই ঘটনার খবর পেয়ে তিনি সহ বিশাল পুলিশ ও টিএসআর বাহিনী সেখানে ছুটে যায়। পুলিশ দেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ পুলিশের কাছে আসেনি। অভিযোগ এলে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বর্তমানে পার্টি অফিসের সামনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনা সামনে আসতেই চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে ধর্মনগরে। শুধু পার্টি অফিসেই হামলা ও ভাঙচুর করে খান্ত হয়নি দুষ্কৃতীরা। সিপিএম নেতা অমিতাভ দত্তের আরও অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা ধর্মনগর জেল রোডের বাসিন্দা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সজল চক্রবর্তীর বাড়িতে চড়াও হয়। সজল চক্রবর্তী দীর্ঘ দিন যাবৎ শারীরিকভাবে অসুস্থ ও ভীষণ দুর্বল। তার বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে, আসবাবপত্র, কম্পিউটার সামগ্রী সহ প্রচুর জিনিসপত্র ও বই বিনষ্ঠ করে। নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতন করে। সিপিআইএমের আন্দোলন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারবে না বলে দুর্বৃত্তরা হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন কোথায় সুশাসন? যেখানে ধর্মনগরে দুর্বৃত্তদের হাত থেকে শিক্ষাবিদও রেহাই পাচ্ছে না।


এদিকে ধর্মনগর সিপিএম বিভাগীয় দলীয় অফিসে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সিপিএম রাজ্য কমিটি সম্পাদক তথা পলিটব্যুরোর সদস্য জিতেন চৌধুরী। তিনি জানান, এই পর্যন্ত ধর্মনগর পার্টি অফিসে দশমবার হামলা হয়েছে এটা শাসক দলের দুর্বলতার প্রকাশ। শাসক দল বুঝতে পেরেছে আগামী নির্বাচনে তারা গো-হারা হেরে যাবে তাই দুর্বলতা থেকে হামলা হুজ্জতি চালাচ্ছে। এই হামলার ঘটনার দায় স্বীকার কোনওভাবেই এড়াতে পারে না। পুলিশের ঘটনার সময় নীরব দর্শক ছিল জিতেনবাবুর অভিযোগ।এদিকে সিপিএম পশ্চিম জেলার ডুকলি মহকুমা অফিসেও হামলা করেছে শাসক দলের সমাজদ্রোহিরা। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন চৌধুরীর অভিযোগ রাজ্যে আইনের শাসনের অস্তিত্ব নেই। তাই প্রকাশ্য দিবালোকে মহকুমা অফিসে হামলা করল বিজেপির সমাজদ্রোহিরা। পরাজয়ের আতঙ্কে এ ধরনের অপকর্মগুলি করছে শাসকদল। বিজেপির পায়ের নিচের মাটি নেই। তাই হামলা হুজ্জতি করে ক্ষমতায় বসে থাকতে চাইছে বিজেপি। তবে ২৮-এর বিধানসভায় বিজেপির বিদায় নিশ্চিত। এ লক্ষ্যে রাজ্যের মানুষ ঘরে ঘরে প্রস্তুত হয়ে গিয়েছেন।

Dainik Digital

Dainik Digital

Leave a Reply

Your email address will not be published.