শান্তি সম্প্রতি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান প্রদ্যোতের!!

অনলাইন প্রতিনিধি:-রাজ্যের শান্তি সম্প্রতি ও সংহতি রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।যাতে আমাদের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন হয়।এর জন্যে ২০২৮’র বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের পথে নামতে হবে। আমাদের দাবির সংবিধানিক সমাধানের জন্য আজ থেকে আমরা সংকল্প নিয়ে ঘরে ফিরে যাবো। বাধা আসবে, প্রলোভনও দেখানো হবে। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই আমাদের ত্রিপাক্ষিক চুক্তির শর্তগুলি ধাপে ধাপে পূরণ হয়ে যাবে। আজ এমনটাই বললেন, তিপ্রা মথার সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ।
বৃহস্পতিবার উদয়পুরে ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দিরের মাঠে আয়োজিত জনসভায় বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মাকে পাশে বসিয়ে তিনি বলেন, ভারত সরকারের সাথে আমাদের ত্রিপাক্ষিক চুক্তি হয়েছে। যা একটি অংশের সহ্য হচ্ছে না।এরা চায় না রাজ্যের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন হোক।তারা মানুষকে গরিব বানিয়ে রাখতে চায়।এরা চায় না রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনা করতে পারে।মানুষকে গরিব ও অশিক্ষিত বানিয়ে রাখতে পারলেই তারা আবার ক্ষমতায় বসতে পারবে। তাই আমাদের পথে নামতে হবে। মানুষের ঘরে ঘরে যেতে হবে। কে আমাদের প্রকৃত বন্ধু তা বুঝতে।
প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ এদিনও সিপিএমের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তার অভিযোগ সিপিএমের পঁয়ত্রিশ বছরের শাসনে উপজাতিদের শুধুমাত্র ঠকানো হয়েছে। রাজ্যে রাজা এবং রাজ পরিবারকে অপমানিত করেছে সিপিএম। রাজ্যের টানা পঁচিশ বছর উপজাতিদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সিপিএম উপজাতি জনসমাজের সাথে প্রতারণা করে গিয়েছে। তাই এখনও আমাদের কাছে ভূমির অধিকার, ভাষার অধিকার, আর্থ সামাজিক অধিকার, সরকারী চাকরির অধিকার শিক্ষা সহ অন্নবস্ত্র বাসস্থানের অধিকার চাইতে হচ্ছে। এদের পাপের জন্যে রাজ্যে গ্রাম পাহাড় বর্তমানেও বিদ্যুৎ এবং পানীয় জল সহ নানা সমস্যায় ধুঁকছে। তাই সিপিএমকে আমরা এক ইঞ্চিও জমি ছাড়বো না।
তিনি বলেন, সিপিএম ত্রিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্ত ছড়াতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। অথচ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’র পৌরোহিত্যে ত্রিপাক্ষিক চুক্তির জন্যে রাজ্যের জাতি-উপজাতি, পাহাড়ি-বাঙালি সহ মানুষের অর্থ সামাজিক উন্নয়ন হবে। ত্রিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী ১২৫তম সংবিধান সংশোধনী বিলে অনুমোদন প্রদান করবে কেন্দ্রীয় সরকার। এডিসিকে সরাসরি অর্থ প্রদান করবে কেন্দ্রীয় সরকার। ত্রিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে আমরা সব অধিকার ফিরে পাবো। মানুষ তাদের ভাষার অধিকার, ভূমির অধিকার, আর্থ সামাজিক অধিকার, শিক্ষার অধিকার, অন্নবস্ত্র বাসস্থানের অধিকার ফিরে পাবে। কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের, স্কুল, কলেজ, টেকনিকেল কলেজ, উইমেন্স কলেজ, পানীয় জলের সমস্যা নিরসন, বিদ্যুৎ সমস্যার নিরসন, হাসপাতাল সহ আর্টিকেল ২৩তে অনুমোদন প্রদান ও ত্রিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুমোদন করতে হবে। এটাই হল লাংবিধানিক সমাধান। এই সাংবিধানিক সমাধানের জন্যে আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। কোনও প্ররোচনায় পা দিলে আদতে আমাদেরই ক্ষতি হবে। তাই তিনি সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন,বামেদের জন্য রাজ্যের উপজাতি জনসমাজের এখনও অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের মতো অধিকার চাইতে হচ্ছে। এটা আমাদের কাছে বেদনাদায়ক।এর মূলে রয়েছে রাজ্যের পূর্বতন বাম সরকারের ব্যর্থতা। তবে এখন কেন্দ্রীয় সরকার ত্রিপাক্ষিক চুক্তির শর্তগুলি বাস্তবায়নে আমাদের সাথে একমত। এটাই তাদের সহ্য হচ্ছে না। তিনি বলেন, ত্রিপাক্ষিক চুক্তির জন্যেই এডিসির হাতে সরাসরি অর্থ প্রদান করবে কেন্দ্রীয় সরকার।শুধু তাই নয়, পুষ্পবন্ত প্যালেসে তাজ হোটেল নির্মাণ বাবদ ও কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় এডিসি পেলো ২৫৮ কোটি টাকা সহ ২০০ বেকারের চাকরি।ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদ উন্নয়নে দুটি জাতীয় সড়ক ও গড়ছে কেন্দ্রীয় সরকার। এরপরও একটি অংশ ত্রিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ব্যস্ত রয়েছে। দেশের বর্তমান সরকার রাজ্যের উপজাতি জনসমাজের সব সমস্যা সমাধান ধাপে ধাপে করছে। যা রাজ্যে গত সত্তর বছরে হয়নি।কেন্দ্রীয় সরকার ত্রিপুরার জম্পুই হিল থেকে কাংরাই এবং বুড়িঘাট থেকে শেরমুন পর্যন্ত দুটি জাতীয় সড়কের অনুমোদন প্রদান করেছে। এভাবেই ধাপে ত্রিপাক্ষিক চুক্তির শর্তগুলি পূরণ হবে। বৃহস্পতিবারের ডাকা তিপ্রা মথা দলের প্রকাশ্যে জনসভায় প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন এডিসির মুখ্য কার্যনির্বাহী পূর্ণচন্দ্র জমাতিয়া, এডিসির চেয়ারম্যান জগদীশ দেববর্মা, মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা প্রমুখ।এই সভায় বিশিষ্টজনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের বিধায়ক, এমডিসি সহ রাজ্য এবং জেলার সমস্ত কর্মকর্তারা।